কোরআন-হাদিসের আলোকে ইসরা মিরাজ ও সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার

কোরআন-হাদিসের আলোকে ইসরা মিরাজ ও সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার

ভাগ

মুফতি শরিফুল আজম

‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি। যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল। ‘ (সুরা বনি ইসরাইল-১)

‘ইসরা’ অর্থ রাতে নিয়ে যাওয়া। আয়াতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয়। আর সেখান থেকে আসমান পর্যন্ত যে সফর, তা-ই মিরাজ। এ আয়াতে ‘ইসরা’ আর মিরাজ সুরা নাজমে এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

মিরাজ আত্মিক নয়, স্বশরীরেই হয়েছিল

ইসরা ও মিরাজের সফর আত্মিক ছিল না; বরং সাধারণ মানুষের সফরের মতো স্বশরীরেই ছিল- এ কথা কোরআন ও হাদিসে প্রমাণিত। আলোচ্য আয়াতের প্রথমে ‘সুবহানা’ শব্দের মধ্যে এদিকেই ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা এ শব্দটি আশ্চর্যজনক ও বিরাট বিষয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। মেরাজ যদি শুধু আত্মিক, অর্থাৎ স্বপ্নজগতে সংঘটিত হয়, তবে তাতে আশ্চর্যের কী আছে। স্বপ্নে তো প্রত্যেক মুসলমান; বরং প্রত্যেক মানুষ দেখতে পারে যে সে আকাশে উঠেছে, অবিশ্বাস্য বহু কাজ করেছে।

‘আবদ’ শব্দে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ শুধু আত্মাকে আবদ বলে না; বরং আত্মা ও দেহ উভয়ের সমষ্টিকেই আবদ বলা হয়। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মেরাজের ঘটনা হজরত উম্মে হানী (রা.)-এর কাছে বর্ণনা করলেন, তখন তিনি পরামর্শ দিলেন এ কথা প্রকাশ করবেন না, তাহলে কাফেররা আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করবে। ব্যাপারটি যদি নিছক স্বপ্নই হতো, তবে মিথ্যারোপ করার কী কারণ ছিল।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘটনা প্রকাশ করলেন, তখন কাফেররা মিথ্যারোপ করল এবং ঠাট্টা-বিদ্রূপ করল। এমনকি কত নও-মুসলিম এ সংবাদ শুনে ধর্মত্যাগী হয়ে গেল। ব্যাপারটি স্বপ্নের হলেও এত সব তুলকালাম কাণ্ড ঘটার সম্ভাবনা ছিল কি? তবে এ ঘটনার আগে এবং স্বপ্নের আকারে কোনো আত্মিক মেরাজ হয়ে থাকলে তা এর পরিপন্থী নয়।

ইসরা সম্পর্কে সব মুসলমানের ঐকমত্য রয়েছে। শুধু ধর্মদ্রোহী যিন্দীকরা একে মানেনি। মেরাজ থেকে ফিরে এসে ভোরবেলা যখন নবীজি (সা.) রাতের সফরের ঘটনা শোনালেন, তখন কোরাইশ নেতারা তা অস্বীকার করতে লাগল। এত অল্প সময়ে মক্কা শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে গমন তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলো। তাদের মধ্যে যে এর আগে মসজিদে আকসা ভ্রমণ করেছে সে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বায়তুল মুকাদ্দাসের কিছু বিবরণ শোনান দেখি। অমনি আল্লাহ তায়ালা মসজিদের বাস্তব চিত্র নবীজি (সা.)-এর সামনে হাজির করে দিলেন আর তিনি দেখে দেখে সব বলে দিলেন। (বুখারি-৪৭১০)

মিরাজের সংক্ষিপ্ত ঘটনা

ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে এ আয়াতের তাফসির এবং সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেন, সত্য কথা হলো, নবী (সা.) ইসরা সফর জাগ্রত অবস্থায় করেন, স্বপ্নে নয়। মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত এ সফর বোরাকযোগে করেন। বায়তুল মুকাদ্দাসের দ্বারে উপনীত হয়ে তিনি বোরাকটি অদূরে বেঁধে নেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদে প্রবেশ করে কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এরপর সিঁড়ির সাহায্যে প্রথম আকাশ, তারপর অন্যান্য আকাশে যান। ওই সিঁড়িটির স্বরূপ সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। যাহোক, প্রতিটি আকাশে সেখানকার ফেরেশতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এবং ষষ্ঠ আকাশে হজরত মুসা (আ.) ও সপ্তম আকাশে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এরপর তিনি পয়গাম্বরগণের স্থানগুলোও অতিক্রম করে যান এবং এক ময়দানে পৌঁছেন, সেখানে ভাগ্যলিপি লেখার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তিনি সিদরাতুল মুনতাহা দেখেন, সেখানে আল্লাহর নির্দেশে স্বর্ণের প্রজাপতি ও নানা রঙের প্রজাপতি ছোটাছুটি করছিল। ফেরেশতারা স্থানটিকে ঘিরে রেখেছিল। সেখানেই তিনি একটি দিগন্তবেষ্টিত সবুজ রঙের পালকির ন্যায় ‘রফরফ’ ও বায়তুল মা’মুরও দেখেন। বায়তুল মা’মুরের কাছেই কাবার প্রতিষ্ঠাতা হজরত ইবরাহিম (আ.) প্রাচীরের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। এই বায়তুল মা’মুরে দৈনিক ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন। কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের বারবার প্রবেশ করার সুযোগ আসবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বচক্ষে জান্নাত ও দোজখ দেখেন। সে সময় তাঁর উম্মতের জন্য প্রথমে ৫০ ওয়াক্তের নামাজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ হয়। এরপর তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করে দেওয়া হয়। এর দ্বারা সব ইবাদতের মধ্যে নামাজের বিশেষ গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। এরপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে ফিরে আসেন এবং বিভিন্ন আকাশে সেসব পয়গাম্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাঁরাও তাঁর সঙ্গে বায়তুল মুকাদ্দাসে নামেন। তাঁরা এখান থেকেই বিদায় নেন এবং রাসুল (সা.) বোরাকে সওয়ার হয়ে অন্ধকার থাকতেই মক্কায় পৌঁছে যান।

মেরাজের ঘটনা সম্পর্কে একজন অমুসলিমের সাক্ষ্য

তাফসিরে ইবনে কাসিরে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে পত্র লিখে, হজরত দাহইয়া ইবনে খলিফাকে পাঠান। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস পত্র পাঠ করার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবস্থা জানতে আরবের কিছু লোককে দরবারে ডাকেন। আবু সুফিয়ান ইবনে হরব ও তার সঙ্গীরা সে সময় বাণিজ্যিক কাফেলা নিয়ে সে দেশে ছিল। তারা দরবারে হাজির হলো। হিরাক্লিয়াস তাদের যেসব প্রশ্ন করেন, সেগুলোর বিবরণ বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে। আবু সুফিয়ানের আন্তরিক বাসনা ছিল, এ সুযোগে সে রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে এমন কিছু বলবে, যাতে সম্রাটের কাছে তার ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আবু সুফিয়ান নিজেই বলে, আমার এ কাজে একটি অন্তরায় ছিল, তা হলো আমার মুখ দিয়ে কোনো সুস্পষ্ট মিথ্যা বের হলে সম্রাটের দৃষ্টিতে হেয়প্রতিপন্ন হব। এবং আমার সঙ্গীরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে র্ভৎসনা করবে। তখন আমার ইচ্ছা জাগে মেরাজের ঘটনাটি বলতে। এটা যে মিথ্যা ঘটনা, তা সম্রাট নিজেই বুঝে নেবেন। আমি বললাম, একটি ঘটনা বর্ণনা করছি, আপনি নিজেই বুঝবেন যে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞেস করলেন, ঘটনাটি কী? আবু সুফিয়ান বলল, নবুওয়াতের এই দাবিদারের উক্তি এই যে সে এক রাতে মক্কা মুকাররমা থেকে বের হয়ে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত পৌঁছে এবং প্রত্যুষের আগে মক্কায় আমাদের কাছে ফিরে আসে।

বায়তুল মুকাদ্দাসের সর্বপ্রধান যাজক ও পণ্ডিত তখন রোম সম্রাটের পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বললেন, আমি সে রাত সম্পর্কে জানি। রোম সম্রাট তাঁর দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এ সম্পর্কে কী জানেন? তিনি বললেন, আমার কাজ ছিল বায়তুল মুকাদ্দাসের সব দরজা বন্ধ করার আগে আমি ঘুমাতাম না। সে রাতে আমি সব দরজাই বন্ধ করে দিলাম, কিন্তু একটি দরজা আমি বন্ধ করতে পারছিলাম না। অগত্যা কর্মচারীদের ডাকলাম। তারা সবাই চেষ্টা চালাল। কিন্তু তারাও বন্ধ করতে পারেনি। দরজার কপাট মোটেই নড়ছিল না। যেন আমরা কোনো পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা লাগাচ্ছি। আমি অপারগ হয়ে কর্মকার ও মিস্ত্রিদের ডাকলাম। তারা পরীক্ষা করে বলল, কপাটের ওপর দরজার প্রাচীরের বোঝা চেপে বসেছে। এখন ভোর না হওয়া পর্যন্ত দরজা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই। সকালে আমরা চেষ্টা করে দেখব, কী করা যায়। অবশেষে তা খোলা রেখেই ফিরে এলাম। সকাল হওয়ামাত্র আমি সে দরজার কাছে গিয়ে দেখি মসজিদের দরজার কাছে ছিদ্র করা একটি প্রস্তর খণ্ড পড়ে আছে। মনে হচ্ছিল ওখানে কোনো জন্তু বাঁধা হয়েছিল। তখন আমি সঙ্গীদের বলেছিলাম, আল্লাহ তায়ালা এ দরজাটি সম্ভবত এ কারণে বন্ধ হতে দেননি যে হয়তোবা আল্লাহর কোনো প্রিয় বান্দা এসেছিলেন। এরপর তিনি বলেন, ওই রাতে তিনি আমাদের মসজিদে নামাজ পড়েন। এরপর তিনি আরো বিশদ বর্ণনা দিলেন (ইবনে কাসির ৩/২৪)

ইসরা ও মিরাজের তারিখ

ইমাম কুরতুবী (রহ.) স্বীয় তাফসির গ্রন্থে বলেন, মেরাজের তারিখ সম্পর্কে বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণিত রয়েছে। মুসা ইবনে ওকবার রেওয়ায়েত এই যে ঘটনাটি হিজরতের ছয় মাস আগে সংঘটিত হয়। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, হজরত খাদিজার ওফাত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে হয়েছিল। ইমাম যুহরী (রহ.) বলেন, হজরত খাদিজার ওফাত নবুওয়াতপ্রাপ্তির সাত বছর পরে হয়েছিল। মুহাদ্দেসগণ বিভিন্ন রেওয়ায়েত উল্লেখ করার পর কোনো সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেননি। (মা’আরিফুল কোরআন)

এ থেকে বোঝা যায়, শবেমেরাজ, শবেকদরের মতো বিশেষ রাত নয়। মেরাজ রজনী শবেকদরের মতো হলে এর মাস তারিখ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হতো। যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শবেকদরের। যেহেতু এ রাতের তারিখ সংরক্ষিত নেই, তাই ২৭ তারিখকে শবেমেরাজ নির্ধারণ করাও কঠিন।

ওই রাতই ফজিলতপূর্ণ ছিল

মেনেও যদি নিই ২৭ রজবে মেরাজ সংঘটিত হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.)-কে বিশেষ নৈকট্য দান করেন। মুসলমানদের নামাজ উপহার দেন। তাহলে নিঃসন্দেহে ওই রাতই ছিল ফজিলতপূর্ণ। এই রাতের ফজিলত নিয়ে কোনো মুসলমানের সন্দেহ থাকতে পারে না। তবে এই ফজিলত প্রতি বছরের ২৭ রজবের নয়।

রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় ১৮ বার শবেমিরাজ এসেছিল

দ্বিতীয় কথা হলো, নির্ভরযোগ্য মতানুসারে মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল নবুওয়াতের পঞ্চম বছর। এ ঘটনার পর নবী করিম (সা.) আরো ১৮ বছর সাহাবাদের মাঝে ছিলেন। কিন্তু শবেমেরাজের ব্যাপারে এ দীর্ঘ সময়ে কোথাও কোনো বিশেষ হুকুম দিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তা উদ্‌যাপনেও গুরুত্বারোপ করেননি। রাসুল (সা.) নিজেও এ রাতে জেগে থাকেননি। সাহাবিদেরও জাগতে বলেননি। রাসুল (সা.) পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর ১০০ বছর সাহাবায়ে কেরাম জীবিত ছিলেন। শতাব্দীজুড়ে এমন একটি ঘটনাও পাওয়া যায় না, যেখানে সাহাবায়ে কেরাম ২৭ রজবকে বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন। সুতরাং যে কাজ রাসুল (সা.) করেননি, যে কাজ সাহাবায়ে কেরামও পরিহার করেছেন। ২৭ রজবে প্রচলিত ইবাদত বন্দেগিগুলোকে দ্বীনের অংশ মনে করা, সুন্নত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা অথবা এসব প্রচলনের সঙ্গে সুন্নতের আচরণ করা বিদআত।

সাহাবারা দ্বীন সম্পর্কে বেশি অবগত

বাস্তবতা হলো, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন দ্বীনের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জানতেন। দ্বীনের ওপর পরিপূর্ণ আমল তাঁরাই করেছিলেন। অতএব এ রাতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করা বিদআত। প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা যে ইবাদতের তৌফিক দেন তা তো অনেক উত্তম। সুতরাং ২৭ তারিখেও রাত জেগে ইবাদত করুন। ২৬ তারিখেও রাত জাগেন। তেমনিভাবে ২৭ তারিখের পরও রাত জাগুন। কিন্তু ২৭-এর রাতের সঙ্গে অন্য রাতের পার্থক্য প্রমাণিত নয়।

২৭ রজব কোনো রোজা নেই

কেউ কেউ আশুরা ও আরাফার রোজার মতো ২৭ রজবের রোজাকে ফজিলতপূর্ণ মনে করে। এ ব্যাপারে কোনো সহিহ হাদিস নেই। ওমর (রা.)-এর আমলে কিছু লোক ২৭ রজব রোজা রাখতে শুরু করল। ওমর (রা.) জানতে পারলেন, কিছু লোক ২৭ রজবকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখছে। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন। প্রত্যেকের কাছে গিয়ে জোর করে বললেন, আমার সামনে খাবার খাও। প্রমাণ করো তুমি রোজাদার নও। অন্যান্য দিন যেমন নফল রোজা রাখা যায়, এদিনও রাখা যেতে পারে। এদিনের সঙ্গে অন্য দিনের কোনো পার্থক্য নেই। এমনটি তিনি করেছিলেন যেন বিদআতের দরজা রুদ্ধ হয়।

আনুগত্যের নাম দ্বীন

ওমর (রা.) মন্দ দিকটি বলে দিয়েছেন। তা হলো এদিনে রোজা রাখতে আল্লাহ বলেননি। ধর্মের মধ্যে মনগড়া কিছু পালন করাই আসল খারাপ দিক। দ্বীনের মূল সারাংশই হলো অনুসরণ ও আদেশ-নিষেধের আনুগত্য করা। কোথায়ও কিছু নেই, ইবাদতেও কিছু নেই। নামাজেও কিছু নেই। যখন নামাজের আদেশ হয় তখন নামাজ পড়া ইবাদত। যখন নামাজ না পড়ার আদেশ হয়, তখন নামাজ না পড়া ইবাদত। এ সময় রোজার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আসবে তখন রোজা না রাখাই ইবাদত। এ সময় রোজা রাখলে দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণ হবে। দ্বীনের সব কিছু আল্লাহর অনুসরণ-অনুকরণ ও আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই দিনকে বেশি ফজিলতপূর্ণ মনে করে, সুন্নত মনে করে, মুস্তাহাব ও অধিক সওয়াবের উপায় মনে করে রোজা রাখা এবং রাত জাগা ঠিক নয়; বরং বিদআত।

শিরনি করা

শবেমেরাজের তো ভিত্তি আছে যে এ রাতে রাসুল (সা.) ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেছিলেন। কিন্তু আজকাল ফরজ-ওয়াজিবের মতো যে জিনিসটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাহলো শিরনির আয়োজন। শিরনি না করলে যেন মুসলমানই নয়। নামাজ পড়ুক না পড়ুক, রোজা রাখুক বা না রাখুক, গুনাহ পরিত্যাগ করুক বা না করুক শিরনি কিন্তু করতেই হবে। কেউ যদি শিরনি না করে অথবা শিরনি করতে বাধা দেয় তাকে সব ধরনের নিন্দা করা হয়। আল্লাহই জানেন, এ শিরনি প্রথা কোত্থেকে এলো। না কোরআনে আছে, না হাদিসে আছে। না সাহাবায়ে কেরাম করেছেন, না তাবেঈন, না তাবে তাবেঈন করেছেন, না বুজুর্গানে দ্বীন করেছেন। এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।

কুসংস্কারে হারিয়ে গেল উম্মত

এসব জিনিস উম্মতকে কুসংস্কারে লিপ্ত করেছে। এ ধরনের বিষয়কে আবশ্যক মনে করা হচ্ছে। বাস্তব ও সঠিক জিনিসগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। মুসলমান ভাইদের বিষয়টি বোঝাতে হবে। এ জন্য যে, অনেক মানুষই না বুঝে করছে, মনে কোনো একগুঁয়েমি নেই। তারা দ্বীন সম্পর্কে ওয়াকিফহাল নয়। এ বিষয়টি তারা জানে না। এসব মানুষের বিনয় ও ভদ্রতার সঙ্গে আন্তরিকভাবে বোঝানো উচিত। এ ধরনের কাজ থেকে নিজেরও বেঁচে থাকতে হবে।

লেখক : মুহাদ্দিস, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ সূত্র-কালেরকণ্ঠ

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ