জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে নেতাদের মন্তব্য

জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে নেতাদের মন্তব্য

ভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সদ্য ঘোষিত কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে কমিটির সদস্য এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরা নানা মন্তব্য করেছেন। ইতিমধ্যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মন্তব্য লিখেছেন । অনেকে আবার ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, জামায়াত ঘরনা লোক কমিটিতে স্থান পাওয়ায় বিরুপ মন্তব্যও করেছেন। পাঠকের সুবিধার জন্য মন্তব্যকারীদের পেইজবুকে স্টেটাস হুবুহু তুলে ধরা হলো-

জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য রাশেদুল ইসলাম লিখেছেন-

ভাত একটা টিপলে বুঝাযায়- পাতিলের অন্য ভাতের কি অবস্থা :
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানানোর আগে কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন। কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রভাবশালীরাই এই শহরের নেতৃত্ব দেয়ার কথা। শহর আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মহোদয়ও বড় প্রভাবশালী ও অনেক বড় রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কক্সবাজার পৌরসভায় নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে ৩ ভোট লাভ করেছিলেন। আশা করি আর কোন রাজনীতিবিদ এই রেকর্ড ভাঙ্গতে পারবে না। হালে বেশ মোটা তাজা এবং জনপ্রিয়তাও বেশ বেড়েছে তার। এই শহরের নেতাদের বেশ প্রভাব জেলার রাজনীতিতে। তাই তাদের নিয়ন্ত্রনাধীন কমিটি হওয়াই বাঞ্চনীয়। হয়েছে ও তাই। শহরের আদলে জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে। আমাদের জেলার ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহোদয়ের একবার স্বপ্ন হয়েছিল কক্সবাজার সদর আসন থেকে (সদর-রামু) এমপি নির্বাচন করার। ব্যাপক প্রচারণার পর তিনি তৃণমুল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে ১৪ জনের মধ্যে নিচের দিকে প্রথম হয়েছিলেন তিনি ।
যে খোড়া অজুহাতে বাদ গেল জাফর, হামিদ, কাজল, তালেব, মাদু সে একই ক্যাটাগরীর আশেক, মকছুদরাই ঠিকই কমিটিতে স্থান পেল। স্থান হয়নি মহেশখালীর জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন ইব্রাহীম’র, হয়তো জাল সার্টিফিকেট সন্দেহে বাদ দেওয়া হয়েছে পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনছারূল করিমকে। অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও অধ্যাপক হামিদুল হকের বিকল্প মনে হয় ইকরা মিকরারা, চকরিয়া পেকুয়ার জাফর, গিয়াস কাসেমদের বিকল্প কে নেতারাই ভাল বলতে পারবেন।
আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাজাকার ও রাজাকার পুত্রদের না আসার কথা, তাদেরও দেখা যায়। ইয়াবা মানব পাচারকারী ও সব সময় সরকারী দল করা কিছু নেতাতো আছেনই। গুন্দু, কনক, হিমু, ওসমান, লিটুদের স্থান না পাওয়াই স্বাভাবিক এই খানে।

তিনি আরো লিখেছেন-দূর্ভাগ্য আমার ,আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাতে পারছিনা। ঢাকায় অবস্থান করছি ৩/৪ দিন হল।কেন্দ্রের অনেক সিনিয়র নেতার সাথে দেখা হয়েছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার সৌভাগ্য হল গতকাল। অল্প কিছু কথাও বলতে পেরেছি প্রিয় নেত্রীর সাথে । অনেক দু:খ বোধের মধ্যেও প্রিয় নেত্রীর সার্নিধ্যে গেলে ভুলে যাই না পাওয়া গুলো । কক্সবাজার হতে বার বার ফোন আসছে রাজনৈতিক সহকর্মীদের। জানতে চাচ্ছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি কেমন হল । কে আছে কে নেই। আমার কি অবস্থা, কোথায় রেখেছে ,কারা বাদ গেল। সত্যিকথা বলতেকি আমি সঠিক ভাবে কিছুই জানিনা । কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি জমা দিয়েছে জেলার সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও তাদের দু’একজন বিশ্বস্থ কাছের লোক ছাড়া আর কেউ খুব বেশী জানেনা । তবে নানা জনের মাধ্যমে যা শুনতে পাই , তাতে আশার আলো খুব বেশী না । যতটুকু এর মধ্যে জেনেছি যারা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জনগনের কাছে এবং আওয়ামী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন লোক তাদের সিংহ ভাগই এই কমিটিতে স্থান পায়নী। স্থান পেয়েছে কিছু নব্য পয়সাওয়ালা , তারা কেউ আওয়ামীলীগ কিনা আমি জানিনা । আমার মত কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ নেতা কর্মিরা তাদের নাম আগে কখনো শুনেনী । আমার এবং দলের সাধারণ নেতাদের কাছে তাদের কোন গুরুত্ব না থাকলে ও আমাদের বর্তমান সভাপতি সাধারন সম্পাদক’র কাছে তারা খুবই গুরুত্বপূর্ন । তাই তারা একদিনও আওয়ামী রাজনীতি না করে আওয়ামীলীগের কমিটিতে তাদের নাম দিয়ে কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে । আমি দায়িত্বশীল কেউ নই তারপরও বিবেকের তাড়নায় আমার দ্বারা যতটুকু সম্ভব প্রতিবাদ করেছি ,ভবিষ্যতে ও করব । এই সব সুবিধাবাদীর স্থলে আওয়ামী পরিবারের কিছু ভাল তরুণ উটে আসলে অভিবাদন জানাতাম সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মহোদয়কে । দূর্ভাগ্য আমার আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাতে পারছিনা ।

আব্দুল খালেক লিখেছেন-

14642430_677914269042629_6861907638723717220_nঅনেক দিন পর , সকল কল্পনার, জল্পনার অবসান হল জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির । অনেকে আনন্দিত, অনেকেরই মাঝে হতাশার চিত্র । সবকিছু মিলিয়ে একজন আওয়ামী পরিবারের কর্মি হিসাবে, কিছু মন্তব্য করার অধিকার নিশ্চয়ই আমার থাকার কথা । সে হিসাবে আমি যদি কিছু মন্তব্য করি সে আমার অপরাধ হওয়ার বিষয় হিসেবে মনে করে থাকে তবে আমিও নিদ্বির্ধায় বলব সে আমার বলার অধিকারের প্রতি হস্তক্ষেপ । সেই হিসাবে আমি তার তীব্র প্রতিবাদ করতে দ্বিধা করবনা । সাবেক ছাত্র নেতাদের খুব একটা চুখে পডার মতো নেই , কেন নেই সে নিয়ে বিতর্ক ও করবনা । কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাই , তাদের কিসের অপরাধেই কারণে তারা আজকের জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মধ্যে নেই, আমার যেমন প্রশ্ন আওয়ামী পরিবারের ও একটিই প্রশ্ন তবে কি যারা কমিটি সাঝিয়েছে , দায়দায়িত্ব কি তারা এডাতে পারবে ???
আমি যদি বলি নুরুল আজিম কনক সে কি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না? যদি না থাকত তবে আমার কোন প্রতিক্রিয়া থাকতনা । সার্বিক সক্রিয় থেকে ও তার জায়গা হলনা । এটা কি তার উপর এক বৈরীতা নয় ? অনেক জৌষ্ট নেতাদের নিচে নামিয়ে তাদের অসম্মান করা হয়েছে । এটা কি সিস্টাচারিতা পর্যায়ে পডেনা ?ছাত্র লীগের আরো অসংখ্য সাবেক কর্মী, তাদের যথাযথ মুল্যায়ন করা হয় নি । এই যদি চলমান হয় তবে আগামী তে আওয়ামী পরিবারের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো উত্তর সুরী কি খুঁজে পাওয়া যাবে?
আমার আকুল আবেদন, সচ্চতার রাজনীতির চর্চা করুন; ;; আগামীর জন্য এক সুন্দর সৃষ্টির সুচনা করুন , নিজেদের তর্কের উর্দে রাখুন, ,
আওয়ামী পরিবার কে বিতর্কের হাত থেকে রক্ষা করুন কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমার এ লিখন নিশ্চয়ই না পরামর্শ ও না । এটি নিতান্তই আমার নিজস্ব অভিব্যক্তি ।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাঠাগার সম্পাদক সোহেল উদ্দিন লিখেছেন-

12745541_883819771736933_8873861646990860093_nসুবিধাবাদীদের অবস্থান ঠেকানো সম্ভব হচ্ছেনা কারণ তারা বিভিন্ন ছদ্মবেশ নিয়ে থাকে এবং বড় নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট কিন্তু সরাসরি জামাত-শিবিরের অনুপ্রবেশ!!!!!
কেমনে কি বুঝলাম না???
এখন ভেবে দেখুন…জামাত-ই যখন বড় আওয়ামীলীগ নেতা তখন সংগঠনে আর কি কি ঘটতে পারে…???
আমি অবাক হলাম…আসলে অবাক না হয়ে পারলাম না!!! বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার মত একটি ইউনিটে যখন পূর্নাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে জামাত নেতাকে আসীন দেখবেন তখন আপনিও অবাক না হয়ে পারবেন না…!

বিঃদ্রঃ এই লেখাটা কমিটিকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে নয়, সংগঠনকে জামাত শিবিরমুক্ত রাখার প্রয়াসে।

আযাদ নামে উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা লেখেছেন-অবশেষে 14670801_1598716110433039_5215944381447487615_nদেখলাম কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের পুর্নাংগ কমিটি, আশাকরেছিলাম উখিয়া থেকে এ্যাডভোকেট জমির উদ্দিন, আবুল মনসুর চৌধুরীরা কমিটিতে আসবে, কিন্তু তারা আসেনাই তো কি হয়েছে মহেশখালী থেকে জামাত নেতা নব্যটাকা ওয়ালা হোটেল ব্যবসায়ীরা তো এসেছে, অভিনন্দন জেলা আওয়ামীলীগের পুর্নাংগ কমিটিতে স্হান না পাওয়া দলের দুরদিনের কান্ডারীরা, একন উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের পুর্নাংগ কমিটি দেকার আশাটা বাকি রইল।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ