হাইকোর্ট নয়,জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা দিয়েও ঠেকানো যাবে না লালদিঘীর দখল!

হাইকোর্ট নয়,জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা দিয়েও ঠেকানো যাবে না লালদিঘীর দখল!

ভাগ

মঈনুল হাসান পলাশ ॥

কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রস্থলে এক গন্ডা জমির দাম অর্ধকোটি টাকা। লালদিঘী দখল করে মার্কেট বানালে কত কোটি টাকার ধান্ধা হবে? শহরের অনেক হোমরা চোমরা এখন এই হিসেব কষছেন।
চিন্তা করা যাক, লালদিঘীর উপর পিলার বসিয়ে বহুতল মার্কেট করা হলো। কয়েক ফ্লোর জুড়ে শ’খানেক দোকান। এক-একটা দোকানঘরের সেলামী বা জামানত হবে নুন্যতম ২০ লাখ টাকা। মাসে মাসে ভাড়া তো আছেই। তার উপরের দিকের তলাগুলোতে ব্যাংকসহ নানান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। আর সবকিছুর উপরে ৫/৬ তলা দালানের ছাদে বিভিন্ন বিলবোর্ড ভাড়া দেয়। চিন্তা করলেই শরীরটা চনমন করে ওঠে। জিভে রসে ভরে যায়। কোটি কোটি টাকার রসালো কামাই!

এই রসালো কোটি কোটি টাকার কামাই ভোগ করতে শহরের হোমরা-চোমরারা একজোট হবেন। তারা আগাম চিন্তা করে রাখবেন, কিছু সাংবাদিক ডিস্টার্ব (!) করতে পারে। এদের কাউকে দোকান, কাউকে নগদ দেয়া। কিছু পরিবেশবাদী লাফালাফি করতে পারে। তাদেরকেও একটু…।

প্রশাসনের কেউ কেউ নড়াচড়া করতে পারে। তাদের নড়াচড়া বন্ধ করার ব্যবস্থা করা। সব মিলিয়ে ২০/৩০ লাখ টাকা খাটাতে হবে। এই বিনিয়োগের জন্য তহবিল করা হবে। যেমন করা হয়েছিলো সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বীচ মার্কেট করার সময়ে। বিনিময়ে লালদিঘীর দখল। নিঃসন্দেহে অসাধারণ বিনিয়োগ!
লালদিঘীর দুপাড়ে, দুটো মসজিদ আছে। দুটি মসজিদের মাঝে দুরত্ব বড়জোর একশ গজ। বাকী আছে নুরুল হক মাঝুর (পৌরসভার সাবেক রেষ্ট হাউস) ঘর সংলগ্ন আরেকটা মসজিদ করার জায়গা। এখন মধ্যরাতে পূর্বপাশের মসজিদের নির্মাণ কাজ করছেন কমিটির লোকজন।লোকচক্ষুর অন্তরালে পবিত্র ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন তারা! লালদিঘীতে সব রকমের নির্মাণে হাইকোর্ট নিষেধ করেছে…। তাদের জবাব, দোকান করতে মানা করেছে। মসজিদ করতে তো মানা করে নি হাইকোর্ট!
কয়েক মাস আগে মুচিদের দোকান করে দেয়ার দোহাই দিয়ে লালদিঘীর মাঝে বহুতল ভবনের পিলার জমিয়েছেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু।
আপনি যদি লালদিঘীর দখল নিয়ে মসজিদ কমিটির লোকজনদের প্রশ্ন করেন, তারা বলবে পার্টি অফিসগুলো কেনো হয়েছে? দলীয় অফিসগুলোর দায়িত্বশীলদের যদি প্রশ্ন করেন, তারা বলবেন, দুদিকে দুটা মসজিদ তো হয়ে গেছে। আপনি যদি প্রশ্ন করেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাবুকে, তিনি বলবেন, মসজিদ আর পার্টি অফিস তো লালদিঘী আগেই দখল করে রেখেছে।
সুতরাং লালদিঘী আর দিঘী থাকছে না. নিশ্চিত থাকতে পারেন। হাইকোর্ট-সুপ্রীম কোর্ট নয়,জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা দিয়েও ঠেকানো যাবে না লালদিঘীর দখল!
আর হ্যাঁ, পশ্চিমে এতো বড় সাগর থাকতে সামান্য একটা দিঘী নিয়ে এতো চিন্তা কেনো?
লেখক-সম্পাদক ও প্রকাশক:দৈনিক সমুদ্রকন্ঠ। সূত্র-লেখকের পেইজবুক থেকে।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ