চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে চড়া দামে নিম্নমানের খাবার

চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে চড়া দামে নিম্নমানের খাবার

ভাগ

জামাল জাহেদ

চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলের ক্যান্টিনগুলোতে চড়া দামে নিম্নমানের পুষ্টিহীন খাবার খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত হলে থাকা আবাসিক শিক্ষার্থীদের। বেশি দামে পুষ্টীহীন খাবার খেয়ে একদিকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থতাজনিত রোগে ভুগিতেছে,অন্যদিকে ওজন হ্রাস, চর্মরোগ, রক্তশূন্যতাসহ বেশ কয়েকটি রোগে ভুগছেন অন্যদিকে গলাকাটা চড়াদাম দিয়েও শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না কাঙ্খিত সেবা। একটি সিন্ডিকেট দল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা তিনটি ক্যান্টিন ইজারা নিয়ে জিম্মি করে রেখেছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের।

বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে লটারী বা নিয়ম মেনে ক্যান্টিনের ইজারা নেওয়া হলেও,চট্রগ্রাম প্রকৌশল প্রঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশীশক্তিদিয়ে ক্যান্টিন দখলে নেয় বলে জানা যায়।এমনকি গোপনেমোটা অংকের টাকা দিয়ে কতৃপক্ষেকে ম্যানেজ করে এসব অপকর্মে করার সাহস পায় বলে জনৈক ৪র্থ বর্ষের সিভিল ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছাত্র নিশ্চিত করেন। খাদ্য মান নিয়ে বর্তমানে ২৫০০হাজারেরও অধিক ছাত্রদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা যায়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি হলে ৫/৬শত করে প্রায় ২৫০০হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করেন। শিক্ষার্থীদের  অভিযোগ হল ভিন্ন কৌশলে কর্তৃপক্ষের কাজ থেকে তিনটি ক্যান্টিনের ঠিকাদারি নেয় সাইফুল বারি সহ দুজনের সিন্ডিকেট দল।পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে না জানিয়ে ক্যান্টিন পরিচালক ও মালিকেরা দিনের পর দিন দ্রব্যমূল্যের দাম বাডার কথা বলে খাবারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিন্তু খাবারের মান বাডাচ্ছে না।কম দামের খাবার চড়া দামে ছাত্রদের বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মাসে লাখ লাখ টাকা।এছাডা লক্ষ্য করা যাচ্ছে একেক ক্যান্টিনেখাবারের দামে ও পার্থক্য একেক রকম বলে জানান, হলে থাকা ছাত্ররা।এসব ক্যান্টিনে ৭/৮বছরের শিশুদের দিয়ে ওর্য়াড বয়ের কাজ করান মালিকেরা।বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়মে শিশুশ্রম অপরাধে গন্য হলে ও ক্যান্টিন মালিক প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা না করে দেদারচ্ছে শিশুদের

দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর।অন্যদিকে গোপন কমিশনে নীরব রয়েছে কতৃপক্ষ ও

প্রশাসন।চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে প্রশাসন কর্তৃক খাবার দাম নির্ধারণ করে প্রাইসলিস্ট করে দিলেও হলের ক্যান্টিনগুলোতে তা ব্যবহার করেনা।কোথাও কোন চমুচা সিঙ্গারার তালিকাও নেই,তবে প্রতি পিচ নিচ্ছে ৬টাকা করে।এ সুযোগে ক্যান্টিন পরিচালক ও মালিকরা তাদের ক্যান্টিনে খাবারের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে চড়া দাম হাতিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত সাইফুল বারি গ্যাং এরা।এছাড়াও প্রতিদিন ছাত্ররাজনীতি করা মেধাবী ছাত্ররাবারংবার ক্যান্টিন মালিকদের তাগিদ দিলেও আমলে নিচ্ছেনা মালিকপক্ষ। হল কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা
হলেও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না বলে জানান তারা। আর যারা মেসে খায় তাদের অবস্থা আরো করুণ। বেশিরভাগ সময় হলুদের ডাল ও তরকারির আইটেম একটা হওয়াতে অপছন্দের খাবার খেতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করে। খাবারের দুরাবস্থা নিয়ে মেস ম্যানেজার ও কর্তৃপক্ষের ওপর তারা সবসময়ই অসন্তুষ্ট থাকেন।যেহেতু নিম্নমানের খাবারে অসুস্থতাজনিত রোগে ভুগে মাসের পর মাস।তারপরেও আশেপাশের ১কিঃমি এ স্বল্পদামে ভালো খাবার না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে গলাদ্ধকরণ করতে হচ্ছে এসব খাবার সকল ছাত্রদের।এ সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে মালিকেরা।দেশের অন্যান্য হলের কেন্টিনগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ হলের কেন্টিনে খাবারের মেন্যুতে ভাতের সঙ্গে ডিম ভাজা, মাছ, মুরগি ও গরুর গোসত প্রাধান্য পেয়ে থাকে। প্রতি পিচ মাছ, মুরগি ও গরুর গোসতের দাম ২৮-৩০ টাকা আর ডিম ভাজা ১৫-২০টাকা অথচ বাজার থেকে তাদের ডিম কিনতে হয় ৭ থেকে সাডে ৭ টাকার মধ্যে। মাছ-গোসতের পিচগুলো

এতই ছোট যে, দামের সঙ্গে এর তুলনাই করা যায় না। কিন্তু উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে ব্রয়লায় ১পিচ ছোট মুরগির দাম ৬০টাকা,মাছ ৭০টাকা।যা অভিজাত হোটেল জামানের চেয়ে দ্বিগুন বেশি।এছাডা চালগুলো অত্যন্ত নিম্ন মানের; মোটা,গন্ধ ও সঙ্গে অসংখ্য পাথর। এ কারণে অনেকেই ভাত না খেয়ে নুডুলস, পরোটা-ভাজি, খিচুড়ি-ডিম বা দই-চিডা খেয়ে থাকে।যা শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে দুর্বল করে তোলে।সরেজমিনে গিয়ে ক্যান্টিন ও মেস পরিদর্শনে দেখা যায়,ক্যান্টিনের ভেতরের পরিবেশ অত্যান্ত নোংরা আর স্যাতঁস্যাতে অসাস্থ্যকর দেখা যায়।পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিন ২৫০০ কিলো ক্যালরি খাবার প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই তুলনায় অনেক কম খাবার নিয়ে থাকে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায় দৈনন্দিন গড়ে শিক্ষার্থীরা ১৪শ’ বা ১৫শ’ কিলো ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে থাকে। খাবারের এই অপর্যাপ্ততারকারণে অনেক শিক্ষার্থীই ওজন হ্রাস, চর্মরোগ, রক্তশূন্যতাসহ বেশ কয়কটি রোগে ভুগছে বলে জানালেন ফটিকছড়ির সন্তান চট্রগ্রাম মেডিকেলের এফসিপিএস ডাঃ ঝুলন বড়ুয়া।তিনি বলেন, সঠিক সময় প্রয়োজনীয়  খাবার গ্রহণ না করার ফলে একজন মানুষ ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েবে। ভবিষ্যতের জাতির এই কর্ণধারদের এই খাওয়া দাওয়া  তাদের সু-স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত কিনা বা ভবিষ্যতে তাদের কাছ থেকে দেশ কতটুকু উৎপাদনশীলতা আশা করতে পারে জানতে চাইলে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান অনুষদের পরিচালক ও বিশিষ্ট পুষ্টিবিজ্ঞানী অধ্যাপক আমিনুল হক ভুঁইয়া প্রতিনিধিকে  বলেন, হলের ক্যান্টিন ও মেসগুলোতে যে পরিমাণ ভাত, ডাল, মাছ-মাংস দেওয়া হয়। তা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সু-স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট নয়। হলের খাবার ব্যবস্থা আমিষ ও শর্করা যুক্ত খাবার পরিবেশনের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার যেমন-লালশাক, গাজর, টমেটো, পালংশাক ও মিষ্টিকুমডার ব্যবস্থা করা যেতেপারে।মাত্র ৫টি হলের শিক্ষার্থীদের কেন প্রশাসন কতৃপক্ষ ক্যান্টিন ও মেসে ভালো খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করতে পারেনা তা বোধগম্য নয় বলে

জানান শিক্ষার্থী সাম্য ফরহাদ।নাম প্রকাশ না করা কিছু ছাত্রদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতাই এ রকম ক্যান্টিন ও মেসের উদ্ভট পরিস্থিতি বলে মনে করেন।৩নং হলের ক্যান্টিনমালিক সাইফুল বলেন, কাঁচামাল ও অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কারণে বাধ্য হয় দাম বাড়াাতে হয়। এছাড়া  কর্মচারীর বেতন বেশি দিতে হয় বলে সমস্যা হয় বলে জানান তিনি।এ ছাড়া চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অফিসার শওকত আলী খাবারের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন,খাবারের দাম সীমিত রেখে খাবারের মান বৃদ্ধি করতে ক্যান্টিন মালিকের প্রতি নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে।

ক্যান্টিনে খাবারের দাম কমানো ও খাবারের মান পর্যাপ্ত পরিমানে সহনীয় রাখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ও জানান তিনি।তবে ক্যান্টিন কতৃপক্ষ চালায় না মন্তব্য করে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকার করেন তিনি।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ