হিজরী সন বা মুসলিম বর্ষপঞ্জি

হিজরী সন বা মুসলিম বর্ষপঞ্জি

ভাগ

……… হাফেজ মুহাম্মদ নুরুল আবছার।
আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স॥

নাহমাদুহু ওয়া নুসল্লি আলা রাসুলিহিল কারিম, আম্মা বা’দ
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম,
মুসলিম হিসেবে হিজরী নববর্ষ উদ্যাপন কিংবা মুসলিমের গৌরবের দিনটি পালনের ঐতিহ্য আমাদের সংস্কৃতিতে ব্যাপকতা লাভ করেনি। আমরা অনেকেই জানিনা যে মুসলিমদের নববর্ষ কোন মাসে হয় ? কেউ হয়তবা হিজরী বর্ষ গণনার সঠিক ইতিহাসও জানেনা। হিজরী সনের তারিখের খরবও রাখে না। এর প্রতি মানুষ আকর্ষণও অনুভব করে না। তা খুব দুঃখজনক। আর আমরা যারা মুসলমান আমাদের হিজরী সন সম্পর্কে জানা আবশ্যক।
আর সেই লক্ষ্যে আজ আমার এই লেখা।
হিজরী একটি চন্দ্র নির্ভর বর্ষ পঞ্জি। এটি চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে। আর পৃথিবীতে মুসলমানগণ অনুসরণ করেন ইসলামের পবিত্র দিনসমূহ উদযাপনের জন্য। ৬২২ খ্রিঃ আল্লাহর নির্দেশে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার প্রিয় সাথী হযরত আবু বকর (রাঃ) কে নিয়ে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
**    হিজরতের সময় মদিনার সর্বস্তরের জনগণ মহানবী (সাঃ) কে এভাবে স্বাগত জানান,
তালা আল বাদরু আলাইনা মিম সানিয়াতিল বিদা। ওয়াজাবাশ শুকরো আলাইনা, মা দা’ আ লিল্লাহি দা। আইয্যুহাল মা উসু ফি-না, জি’তা বিল আমরিল সুতা। জি’তা শারবাদ্দাল মদিনা, মারহাবান ইয়া খাইরা দা।
অর্থাৎ, “পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়েছে আমাদের উপর বিদা পাহাড়ের চূড়া থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের জন্য ওয়াজিব। আহ্বানকারীর আল্লাহর প্রতি আহ্বানের বিনিময়ে। যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর পথের দিকে কোনো একজন আহ্বানকারী থাকবে। আমাদের মাঝে প্রেরিত হে প্রিয়জন ! আপনি বাধ্যতামূলক আনুগত্যের নির্দেশনা নিয়ে এসেছেন, এসেছেন অকল্যাণসমূহ দূর করতে। শুভেচ্ছা স্বাগতম ! হে সর্বোত্তম পথের প্রতি আহ্বানকারী” বলে বলে অভ্যর্থনা স্থাপন করেন। রাসুল (সঃ) জন্মভূমি ত্যাগ করার ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যই ইসলামের ”হিজরত” আখ্যা দেয়া হয় বা হিজরী সাল গণনার সূচনা হয়। হিজরতের ১৭ তম বর্ষে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) এর শাসনামলে চন্দ্র মাসের হিসাবে এই পঞ্জিকা প্রবর্তন করা হয়। হিজরতের এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যের ফলেই হযরত ওমর (রাঃ) এর শাসনামলে যখন মুসলমানদের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র পঞ্জিকা প্রণয়নের কতা উঠে আসে তখন তারা সর্বসম্মতভাবে হিজরত থেকেই এই পঞ্জিকার গণনা শুরু করেন। যার ফলে চন্দ্র মাসের এই পঞ্জিকাকে বলা হয় “হিজরী সন”।
**    ইসলামের রমযানের রোজা, ঈদ, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি সমূহ চন্দ্রবর্ষ বা হিজরী সন আমল করতে হয়। রোজা রাখতে হয় চাঁদ দেখে, ঈদ করতে হয় চাঁদ দেখে এভাবে অন্যান্য আমলও। অর্থাৎ আমাদের ধর্মীয় কতগুলো দিন তারিখের হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্র রয়েছে, সেগুলোতে চাঁদের হিসাবে- দিন, তারিখ, মাস ও বছর হিসাব করা আবশ্যকীয়। মুসলমানদের (আমাদের) জন্য হিজরী সন অনুসরণ করা জরুরি।
**    আমাদের উচিত রাসুলে কারীম সাল্লাহু আলাইহি ওদসাল্লাম এর হিজরতের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং হিজরী সন অনুসরণ করা। মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ