সর্বকালের নিষ্ঠুরতম শাসকদের কথা

সর্বকালের নিষ্ঠুরতম শাসকদের কথা

ভাগ

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স॥

একজনের কাছে যিনি নায়ক, অন্যের কাছে তিনিই হতে পারেন স্বৈরাচার এবং অত্যাচারী। ইতিহাসে এমন অসংখ্য নায়ক কিংবা অত্যাচারী স্থান করে নিয়েছেন। ঐতিহাসিকরা তাদের যেভাবেই বর্ণনা করেন না কেন, এখানে চিনে নিন এমন সব মানুষের কথা যারা সর্বকালের নিষ্ঠুরতম নেতৃত্ব বলে বিবেচিত হয়েছেন।
১. কুই শি হুয়াং : চীনের কুইন সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট হিসেবে শাসন করেছেন খ্রিষ্টপূর্ব ২৪৭-২১০ অব্দ পর্যন্ত। বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় নাম ছড়িয়ে পড়ে তার। এক সমাধিতে মানুষের সমান প্রায় ৬ হাজার টেরাকোটা পাওয়া গেছে। এগুলোতে মানুষ মেরে রাখা হতো।

২. গাইয়াস জুলিয়াস সিজার অগাস্টাস জারমানিকাস (ওরফে ক্যালিগুলা) : খ্রিষ্টপূর্ব ৩৭-৪১ অব্দ তার শাসনামল ছিল। প্রথমে তিনি জনপ্রিয় থাকলেও ক্রমেই ভিলেন হয়ে উঠলেন। রাজনৈতিক বিরোধীদের হত্যা করতেন এবং তাদের পরিবারকে সেই হত্যাকাণ্ড দেখতে বাধ্য করতেন। তিনি নিজেকে ঈশ্বর বলে ঘোষণা করেন। তিনি নিজের বোনদের সঙ্গে সঙ্গম করতেন এবং অন্য পুরুষদের সঙ্গে যৌনতায় বাধ্য করতেন। নিজের একটি ঘোড়াতে তিনি ধর্মীয় যাজক বানিয়েছিলেন।
image_276931_0.leader qin-shi-huang
৩. অ্যাতিলা দ্য হান : তার শাসনামল ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩৪-৪৫৩ অব্দ পর্যন্ত। তিনি বর্তমানের জার্মানি, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং বলকান দখল করেছিলেন।

৪. হু জেতিয়ান : খ্রিষ্টপূর্ব ৬৯০-৭০৫ অব্দ পর্যন্ত চীন শাসন করেছেন। তিনি ক্ষমতা দখলে নির্দয়ভাবে প্রয়োজনের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করেছেন।

৫. চেঙ্গিস খান : ইতিহাসের এক বিশাল নায়ক এবং ভিলেন। মধ্য এশিয়া এবং চীনের বিশাল অংশ দখল করেছিলেন। এ দখলদারের কাজে তিনি অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছিলেন।

৬. টমাস ডি টর্কিউমাডা : স্পেনিশদের গ্র্যান্ড ইনকুইজিটর ছিলেন তিনি। ১৪৮৩-১৪৯৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের বিভিন্ন অংশে ধর্মপ্রচার করেছেন। আর এ কাজে দারুন নির্যাতন চালাতেন তিনি। তার সময় ২ হাজার ইহুদি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যান।

৭. তৈমুর : ১৩৭০-১৪০৫ সাল পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়া শাসন করেন। আধুনিক ইরাক, ইরান, তুরস্ক এবং সিরিয়ায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজের সাম্রাজ্য। বলা হয়, আফগানিস্তানে তিনি একটি টাওয়ার বানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যে টাওয়ারটির আকার গড়তে এক দল মানুষ একে অপরের ওপর দাঁড়াবে। তারপর তাদের কংক্রিটে ঢেকে ফেলা হবে।
image_276931_2.leader vlad-iii
৮. ভ্লাদ তৃতীয় : এই মানুষটি পরবর্তীতে রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ারের পরিচয় পান। তিনি বিদ্রোহিদের নিষ্ঠুর শাস্তিতে দমন করতেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে প্রিয় উপায় ছির শূলে চড়ানো।

৯. জার আইভান চতুর্থ : মস্কোর গ্র্যান্ড প্রিন্সের শাসনামল ছিল ১৫৩৩-১৫৪৭ সাল পর্যন্ত। তিনি প্রথম কেন্দ্রিয় সরকারের সঙ্গে জনগণের পরিচয় ঘটান। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি ত্রাস সৃষ্টিকারী শাসকে পরিণত হন। নিষ্ঠুরতার কারণে তার নামের সঙ্গে ‘ভয়ংকর’ শব্দটি জুড়ে যায়।

১০. কুইন মেরি প্রথম : ইংল্যান্ডের কুখ্যাত কিং হেনরি অষ্টম এবং ক্যাথেরিন অব আরাগনের মেয়ে। ১৫৫৩ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং স্পেনের রাজা ফিলিপ দ্বিতীয়কে বিয়ে করেন। তিনি ক্যাথলিসিজম চালু করেন। এ কারণে কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার প্রটেস্টেন্টদের মেরেছেন তিনি।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ