সাইবার অপরাধ

সাইবার অপরাধ

ভাগ

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫

সাইবার অপরাধ তথা ইন্টারনেট এবং কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সন্দেহাতীতভাবেই এ পরিস্থিতি যে কোন দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইন্টারনেটে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা ছাড়াও হ্যাকারদের দখলে চলে যাচ্ছে অনলাইন এ্যাকাউন্ট, ই-মেইল, ওয়েবসাইট। সাইবার ক্রাইমের মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি, ব্ল্যাকমেইল, পর্ণোগ্রাফি, হয়রানি, হুমকি দান, সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রভৃতি। সাইবার অপরাধীদের শিকারে পরিণত হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, সামাজিকভাবে হেনস্তা হওয়া, সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি, এমনকি এসবের পরিণামে প্রাণনাশের নজিরও রয়েছে।
এ কথা সত্য, ইন্টারনেট মানুষের সামনে খুলে দিয়েছে ভার্চুয়াল দুনিয়া। কিন্তু এর মাধ্যমেই সাইবার জগতে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে নানা অপরাধ। এই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতাও বেড়ে চলেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ক্ষেত্রে উগ্রপন্থী জঙ্গীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে পারঙ্গমতা। জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের নিত্যনতুন কৌশলের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হিমশিম খাচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার ও ব্লগে ভুয়া এ্যাকাউন্টের বদৌলতে পাল্টে যাচ্ছে অপরাধের ধরনও। অনেকে নিজের পরিচয়কে গোপন রেখে নানা রকমের অপরাধে সক্রিয় হয়ে উঠছে এই ধরনের অভিযোগও নতুন নয়। সঙ্গত কারণেই এ পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে সাইবার ক্রাইম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোন বিকল্প নেই।
প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভুয়া এ্যাকাউন্টের সংখ্যা, যা হুমকি-ধমকি, চাঁদাবাজি এবং অপপ্রচারসহ নানারকম অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয়, অভিযোগ এবং প্রমাণ সাপেক্ষে ফেসবুক এ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও ফের নতুন নামে আরেকটি এ্যাকাউন্ট খুলে অপকর্ম চালানো হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যদি অপরাধও বৃদ্ধি পায় তবে তা কোনভাবেই ইতিবাচক নয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধ দমনে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সময় এসেছে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে সাইবার অপরাধ দমনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাইবার অপরাধ আজ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এবং বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে এই অপরাধটি সংঘটিত করা সম্ভব হচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অপরাধ দমনে বিশ্বকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার। প্রযুক্তিজ্ঞানে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ এখন অনেক সমৃদ্ধ। সাইবার অপরাধী ধরার কিছু ক্ষেত্রে তারা সফলতা দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ পর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি এবং সাইবার ক্রাইমকে অন্তর্ভুক্ত করে একটা চুক্তি বা নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার, যার মাধ্যমে সাইবার স্পেসে গ্লোবাল শান্তি, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করা যায়। ইতিমধ্যে এ নিয়ে দেশে দেশে নানা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই ক্ষেত্রে ইন্টারপোল আদলে সাইবার অপরাধ দমনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে এই অপরাধটির দমন অপরিহার্য।

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫
ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ