হাজারো শিক্ষার্থীর হাতে বর্ণমালা, কন্ঠে একুশের গান

প্রকাশ: ২০২০-০২-২০ ২০:৫৫:৪৯ || আপডেট: ২০২০-০২-২০ ২০:৫৫:৪৯

সোয়েব সাঈদ, রামু :

বর্ণমালা হাতে হাজারো শিক্ষার্থীর সমবেত কন্ঠে পরিবেশিত হলো অমর একুশের কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি”। মুজিববর্ষ, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে উপলক্ষ্যে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহষ্পতিবার (২০ ফেব্রæয়ারি) সকালে কক্সবাজারের রামু উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে গানটি পরিবেশন করেন, উপজেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যাললয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা।
ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের উদ্যোক্তা রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা। অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী, রামুর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেন।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা বলেন, মুজিববর্ষে ভাষা সৈনিকদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য সর্বস্তুরে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বর্ণমালা হাতে এভাবে সমবেত কন্ঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি” গানটি পরিবেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আন্দোলনের যে গোড়াপত্তন হয়েছিলো ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি রাজপথে রক্ত ঢেলে তার বাস্তবায়ন করেছিলেন অমর শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে। সেসব বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক কন্ঠশিল্পী বশিরুল ইসলাম জানান, বর্ণমালার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি এবং ভাষা আন্দোলনকে শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ধারণ করতে এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আরো বলেন, ভাষা সৈনিকদের স্মরণে এ গানটি কেবল বছরের একটি দিনই গাওয়া হয়। এছাড়া গানটির তেমন চর্চা থাকে না। তাই এ ধরনের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা গানটি আরো বেশী চর্চার সুযোগ পাবে।
আয়োজনের সমস্বয়কারি রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুমথ বড়–য়া জানান, বর্ণমালা হাতে অমর একুশের কালজয়ী গান পরিবেশনের মাধ্যমে ভাষা সৈনিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। এরফলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারবে। তিনি আরো বলেন, ইউএনও প্রণয় চাকমা রামুতে যোগদানের পর থেকে একের পর সৃজনশীল কর্মকান্ড এবং কর্মদক্ষতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। মুজিববর্ষে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এ আয়োজনও সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে।
জানা গেছে, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বাঁকখালী উচ্চ বিদ্যালয়, রামু কলেজ বিএনসিসি, রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ আরো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে বর্ণমালা বর্ণ হাতে নিয়ে একুশের গান পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার উদ্যোগে গত ২২ জানুয়ারি সমুদ্র সৈকতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগ :