নোটিশঃ
যান্ত্রিক  কারনে সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ
সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিলো অতিরিক্ত টাকা প্রতারণা-১

সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিলো অতিরিক্ত টাকা প্রতারণা-১

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল:

শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে নিতান্তই প্রাণী। তার মাঝে ভালমন্দ বুঝার জ্ঞান জন্ম হয় না। এককথায় পৃথিবীর কোন কিছুই তার বোধগম্য নয়। ধীরে ধীর সমাজের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে অবগত হই। খাপ খাইয়ে নেয় পরিবার পরিজনের পরিবেশের সাথে। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে নিজেকে সামাজের যোগ্যতম মানুষ হিসেবে তৈরি করে। এ কাজে অনেকে সফল হলেও অনেকে আবার ব্যর্থ হয়। অনেকের মতে, সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। সেটি পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগপর্যন্ত থাকবে। এজন্য হয়তো সৃষ্টিকর্তা স্বর্গ নরক সৃষ্টি করেছেন। এ কথাও বলা হয় যে, স্বর্গ নরক কিন্তু মানব জাতির জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যকোন প্রাণীর জন্য নয়। তাই মানুষের কল্যানে অন্যন্য প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছে।

পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা যত সৃষ্টি রয়েছে তাদের মধ্যে মান্ষুই সেরা। বিচার বিবেচনাবোধের জন্য সৃষ্টিকর্তা যে জ্ঞান দিয়েছেন এ জ্ঞানের বদৌলতের কারণে মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ জ্ঞানের কারণে মানুষ চিন্তা করতে শিখেছে, আর এ চিন্তায় মানুষকে অন্যপ্রাণী থেকে আলাদা করেছে। জ্ঞানের কারণে মানুষ ভালমন্দ পার্থক্য করতে শিখে, যা অন্যপ্রাণীর মাঝে নেই। কিন্তু মানুষের মাঝে দুই ধরনের প্রবৃত্তি কাজ করে। একটি পশুত্ব, অন্যটি মনুষ্যত্ত¡। যখন মানুষের মাঝে মনুষ্যত্তবোধ কাজ করে, তখন সে সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিত্ব করে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, স্বগীয় সুবাতাস বইতে থাকে সমাজে। আর যখন মানুষের মাঝে পশুত্ব কাজ করে, তখন তাকে নিকৃষ্ট প্রাণী হিসেবে বেঁচে থাকতে হয় আমৃত্যু। তখন সমাজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। চারদিকে মারামারি হানাহানি সৃষ্টি হয়, কোথাও শান্তি ও শৃঙ্খলা থাকে না। সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও তাকে ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। যদিও মানুষ সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের আশায় প্রতিনিয়ত পুঁজা বা প্রার্থণা করে। এত পুঁজা বা প্রার্থণা তারপরও মানুষ অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। অকেটা প্রার্থণা শেষে মসজিদ মন্দির থেকে বের হলেই একে অন্যের সাথে প্রতারণা করে থাকে। মসজিদে বসে সৃষ্টিকর্তাকে বলা হয় “আল্লাহ আমাকে ভাল করে চলার তওফিক দিও, অন্যের উপকার করার তওফিক দিও”।

কিন্তু দেখা যায় মসজিদ থেকেই বের হয়ে তার কথা ভুলে যায়। এ যেন সৃষ্টিকর্তার সাথে প্রতারণা করার মতো। কিন্তু মানুষ বুঝেনা যে, সে নিজের সাথে নিজেই প্রতারণা করে। সৃষ্টিকর্তা কিন্তু কড়াগন্ডায় হিসেবে বুঝে নিবেন। তাই নির্দিধায় বলা যায়, সামাজে অশান্তি সৃষ্টি করে, মানুষের মাঝে মারামারি, হানাহানি সৃষ্টি করে, মানুষের সাথে প্রতারণা করে কখনো সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য পাওয়া যাবেনা।

আজ আমরা দেখছি মানব সমাজে একে অপরকে ঠকানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে একে অপরকে প্রতারিত করতে অনেকটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ! হয় তো আমৃত্যু এ প্রতারণার কাজ চলবে। ভাই ভাইকে, পিতা ছেলে/মেয়েকে, ছেলে/মেয়ে পিতামাতাকে, বন্ধু বন্ধুকে, প্রেমিক প্রেমিকাকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, রাষ্ট্র জনগণকে, জনগণ সরকারকে, ধনী গরীকে, চাকর মালিককে, মালিক চাকরকে, চালক যাত্রীকে, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের, ডাক্তার রোগীকে। এভাবেই ঠকছি আমরা। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে দেশে জন্ম নেয়া সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশি ঠকাচ্ছে আমাদের। কিন্তু কোথাও সমধানের পথ নেই। আমার বিশ্বাস যদি মানুষের মাঝে থাকা মনুষ্যত্ত¡ জাগাতে না পারে তাহলে কখনো সামজের পরিবর্তন হবে না। কেউ চাইলেও সমধান করতে পারবে না। তাই আগে নিজেকে বদলাতে হবে। নিজের চিন্তা, চেতনার পরিবর্তন করতে হবে। হয়তো এভাবেই একদিন সমাজ বদলের নতুন সূর্য উদিত হবে।

সেদিন সন্ধ্যা বেলা, প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় হাঠাচলাও কঠিন হয়ে পড়ছে। যাত্রীবাহি গাড়িও তেমন নেই রাস্তায়। পারিবারিক কাজে কক্সবাজার শহর থেকে সোনার পাড়া যেতে বের হয়েছি। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকায় যাত্রীবাহী সিএনজিতে করে যেতে হবে গন্তব্যে। কিন্তু এত বৃষ্টিতে কিভাবে যাওয়া যাবে বুঝতে পারছি না। ইতিমধ্যে রাস্তায় পানি জমে গেছে। বৃষ্টির সাথে যোগ হয়েছে অন্ধকার। বিদ্যুতিক বাতির আলোতে শহরের পথ দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি গাড়ি দাড়িয়ে আছে ভোলবাবুর পেট্রোল পাম্পে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে অন্ধাকর এ দু’য়ের মিতালি ঘটেছে আজ। হয়তো নি:স্বঙ্গের হাতাশা ঘুছাতে সন্ধি করেছে তারা। কিন্তু আমাকে যে সোনারপাড়ায় যেতেই হবে ! যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে মনে হয় আকাশ প্রচন্ড রকম কান্না করছে। আর থামবে না। এতকষ্ট তার মাঝে জমে আছে আগে তো দেখিনি। আকাশের বেদনা বুঝার ক্ষমতা কি আমার আছে ? যদি থাকতো এত কান্নায় পৃথিবী ভাসাচ্ছে কেন জানতে চাইতাম। আকাশ হয়তো আমার মতো চাপা কান্না নিয়ে বছরের পর বছর শুণ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে।

সিএনজি গাড়ির পাশে গিয়ে চালকের কাছে জানতে চাইলাম সোনারপাড়া যাবে কিনা । তিনি আমাকে বললেন যাত্রী হলে যাবেন। কতক্ষণ লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বললেন, বলা যাচ্ছে না। কারণ বৃষ্টির দিনে যাত্রী কম হয়। এছাড়া এ রাতের সময় কক্সবাজার থেকে সোনারপাড়া এলাাকার যাত্রী কম হয়। অনেক্ষন দাড়িয়ে ছিলাম। অনেকটা বিরক্ত চলে আসছে নিজের মাঝে। আসলেই অপেক্ষা করা কঠিণ কাজ। অপেক্ষা না করলে বুঝতে পারতাম না অপেক্ষা কেমন ? কিন্তু আমাকে যে গন্তব্যে যেতে হবে। রাত আস্তে আস্তে ঘনিয়ে আসছে। যাত্রীও চোখে পড়ছে না। প্রায় ঘন্টা পর দুই জন যাত্রী এসে বসলো। আমরা তিনজন। কিন্তু গাড়ি ছাড়তে তো আরো দুই জন লাগবে। কক্সবাজারে যেসব যাত্রীবাহি গাড়ি রয়েছে তারা গাড়িতে সীট ভর্তি যাত্রী না হলে গাড়ি ছাড়েন না। তাহলে কি করা যায়। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যায়। যদি যাত্রী আসে। এ আশায় বুক বেঁধে আছি। সময় আপন গতিতে বয়ে যাচ্ছে কিন্তু যাত্রীর দেখা নেই। কিছুক্ষন পর চালক এসে বললো যাত্রীতো দেখা যাচ্ছে না।

আপনারা যদি অতিরিক্ত ভাড়া দেন তাহলে আমি গাড়ি নিয়ে চলে যাবো। এ কথা শোনার পর আমি কিছু না শোনার ভান করে বসে আিেছ। অন্য দুইজন বললো, ভাই আরো দশটাকা করে ভাড়া বাড়াই দিতো, চলেন। আরো প্রায় পনের মিনিট অতিবাহিত হলো।

ড্রাইভার এসে জিঙ্গেস করলো আচ্ছা আপনারা যদি যেতে চান তাহলে প্রতিজনের ভাড়া একশত টাকা করে দিতে হবে, না হয় আমি যাবো না। কি বলেন ভাই এটি কি মগের মল্লুক নাকি ? একশত টাকা দিতে হবে ! ভাড়া ৬০ টাকা (যদিও মনগড়া ভাড়া), আপনি আমাদের কাছ থেকে আরো দশ টাকা বেশি নিতে পারেন। কিন্তু একশত টাকা বলতে পারেন না।

আমি কি আপনাদের জোর করে নিয়ে যাচ্ছি ? যদি ভাল লাগে তবে যাবেন, না হয় যাবেন না। তার অঙ্গিভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে সে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ছাড়বে।

বুঝতে পারলাম আমরা এখন তার কাছে জিম্মি। আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েই ছাড়বে। যেহেতু আমদের যেতেই হবে, সে সুযোগ নিচ্ছে সে। প্রচন্ড বৃষ্টি, তার উপর রাত বাড়ছে। গাড়িও কম রাস্তায়। সুতরাং তার সাথে কথা বলাটা বোকামি মনে হলো। ভাই আপনি আমাদের এভাবে ঠকাতে পারেন না। বৃষ্টি হচ্ছে এটি কি আমাদের অপরাধ নাকি ভাই ? বৃষ্টি হলে টাকা বেশি দিতে হবে কেন ?

তিনি কোন কথা না বলে একই উক্তি ‘আমি আপনাদের জোর করে নিয়ে যাচ্ছি না।’ পরে অন্য তিনজনের সাথে কথা বলে ঠিক করলাম একশত টাকা দিবো। কারণ চালক আমাদের জি¥িম করেছে। জরুরী না হলে কি আর এভাবে যায়। হাইরে মানুষ সুযোগ পেল্ইে আমরা এক অপরকে ঠকায়। যখন যেভাবে সুযোগ পাচ্ছি সেভাবে ঠকাচ্ছি। আমরা যখন কক্সবাজার শহর থেকে রওয়ানা হই তখন রাত সাড়ে নয়টা।

শহরের বৈদ্যুতিক আলো ছেড়ে আমরা যাচ্ছি গন্তব্যে। তবে মনের অজান্তে ঘৃণা জন্মে গেল চালকের প্রতি। তিনি আমাদের এভাবে না ঠকালেও পারতেন। সিএনজি চলছে বিশ্বের দীঘৃতম সুমদ্র সৈকতের তীর ঘেষা মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে। মাঝে মধ্যে বজ্রপাতের তীব্র শব্দ মনের মাঝে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে। চালক গতির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। চলছে গাড়ি গন্তব্যে….।

লেখক-সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আবহাওয়া

COX'S BAZAR WEATHER