বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

সম্প্রীতির মিলনে প্রতিমা বিসর্জন কক্সবাজার সৈকতে

সম্প্রীতির মিলনে প্রতিমা বিসর্জন কক্সবাজার সৈকতে

কক্সবাজার : ৮ অক্টোবর’১৯

উৎসবমূখর পরিবেশে শেষ হয়েছে সনাতনীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গপূজা। পাঁচদিনের উৎসব আর নানা আরতিতে পূজা শেষে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে উৎসবের পরিসমাপ্তি করেছে পূজার্থিরা। দেশের সর্ববহৎ বিসর্জন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সৈকতের বালিয়াড়িতে সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতি সম্প্রীতির সেতু বন্ধন তৈরী করে। শেষ আরতী, ঢোলক বাদ্যির তালে তালে ‘মা দুর্গা কি জয়’ এই শ্লোগানে মুখরিত হয় সমুদ্র পাড়। শ্রদ্ধা ভালবাসায় মাতৃবিদায়ের বিষাদপূর্ণ অশ্রু অঞ্জলির মাধ্যমে সাগরের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায় হিন্দু সম্প্র্রদায়।

৪ অক্টোবর মহাষষ্টীর মধ্যমে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এরপর সপ্তমী, অষ্ঠমী ও নবমীর শেষে ৮ অক্টোবর মহাদশমীতে সৈকতে বসে বিসর্জন মেলা। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত পর্যটন নগরীর সৈকতের লাবণী পয়েন্টের মুক্তমঞ্চের সামনে এনে একে একে জড়ো করা হয় প্রতিমাগুলো।

বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় বিসর্জন অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিত দাশের স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার-২ আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, নারী সাংসদ কানিজ ফাতেমা আহমদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, টুরিস্ট পুলিশের সুপার জিল্লুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি নজিবুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতা এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সম্পাদক বাবুল শর্মার সঞ্চালনায় বিসর্জন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দেশে প্রতিমা বিসর্জনের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতেই বসে আসছে যুগ যুগ ধরে। এ বিসর্জন উৎসব কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সৈকতের লোকারণ্যই প্রমাণ করে অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলার। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেবী দূর্গার ন্যায় সমস্ত অপশক্তিকে বধ করা সম্ভব।

অ্যাডভোকেট বাপ্পি শর্মা বলেন, কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃৎ এ বিসর্জনে উখিয়া, চকরিয়া, রামু সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক প্রতিমা আনা হয়। এবার প্রতিমা এসেছে পার্শবর্তী জেলা বান্দরবান, লামা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকেও।

এদিকে, বিসর্জন উপলক্ষ্যে দুপুর হতে বাস টার্মিনাল থেকে হলিডে মোড় ও কলাতলী হয়ে লাবণী রোডে বড়যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বেলা ২টা হতে প্রতিমার গাড়ি ছাড়া ছোট যানও বন্ধ করে প্রশাসন। ফলে, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে পায়ে হেটেই সৈকতে যেতে হয়েছে। দূর্ভোগ পুহিয়েছেন শহর ও অন্যান্য এলাকায় কাজে যাওয়া লোকজন।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে পৌনে ৬টায় প্রতিমা বিসর্জন। একে একে শ্রদ্ধা ভালবাসায় মাতৃবিদায়ের বিষাদপূর্ণ অশ্রু অঞ্জলির মাধ্যমে সাগরের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায় হিন্দু সম্প্র্রদায়।

উল্লেখ্য, এবারে কক্সবাজার জেলায় ১৪১টি প্রতিমা ও ১৫৫টি ঘট পূজা মিলিয়ে ২৯৬ মন্ডপে দূর্গাপূজা চলে। পূজা শুরুর পর মন্ডপ পরিদর্শন করে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজসহ স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসন। দ্বিতীয়বারের মতো উখিয়ার কুতুপালংয়ে হিন্দু রোহিঙ্গাদের জন্য এবারও সরকারি ভাবে পূজা উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। তারাও সৈকতে এসে প্রতিমা বিসর্জনর সুযোগ পেয়েছে। পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি স্ব স্ব মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক এবং ভিন্ন ধর্মালম্বীদের সহযোগিতার কারণে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় শেষ হলো সনাতনীদের সর্ববৃহত ধর্মীয় উৎসব।

সায়ীদ আলমগীর/ রুবেল


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আলোকিত কক্সবাজারে ব্যবহৃত সকল সংবাদ এবং আলোকচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বে-আইনি। স্বত্বাধিকারী alokitocoxsbazar.com দ্বারা সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM