বুধবার, ২৬ Jun ২০১৯, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

রাজাকার পুত্রেরর হামলায় মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহত

রাজাকার পুত্রেরর হামলায় মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহত

কক্সবাজার ৩ এপ্রিল ১৯

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার মেয়র ও রাজাকার মৃত হাশেম সিকদারের পুত্র মকছুদ মিয়ার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলায় মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর এম ছালামত উল্লাহ গুরুত্বর আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টার দিকে মহেশখালী পৌরসভা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাত এগারোটায় তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা অবনতি হলে আজ (বুধবার ৩ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় আহত ছালামত উল্লাহকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আহত ছালামত উল্লাহ জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আজ পর্যন্ত মকছুদ মিয়ার পরিবার ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালাতো। তার তিন ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ক্ষমতার পালাবদল হলে মকছুদ মিয়া আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়। বর্তমান সাংসদের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। পৌরসভার একজন কাউন্সিলর ও সাংবাদিক হিসেবে আমি তার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছি।

ফলে তিনি আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় আমাকে হত্যার হুমকি দিতো। মঙ্গলবার আমি বাড়ি যাওয়া পথে তার নেতৃত্বে একদল যুবক আমার গতিরোধ করে আমার উপর হামলা চালায়। তাদের হাতুড়ি ও লোহার রড়ের আঘাতে আমার হাত ভেঙ্গে যায়। তাদের মারধরের এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে আছি।

আহত ছালামত উল্লাহর বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নতুন বাংলা সনের মহেশখালী পৌরসভার হাট বাজার, গাড়ীর লাইন, ঘুদিঘাট, কসাইখান, গরুছাগলের বাজার বার্ষিক ইজারার গোপনে সম্পাদন করে আত্মীয় স্বজনের নামে ভাগিয়ে নেয়। এসব অনিয়মের বিষয় নিয়ে মত বিরোধের জেরধরে ২ এপ্রিল রাত অনুমান ৯টায় মহেশখালী উপজেলা দীঘির উত্তর পাড়ের ননগেজেট কর্মচারী ক্লাবের সামনে থেকে মেয়র মমকছুদ ও তার লোকজন প্রকাশ্য জনসম্মুখে সিএনজি গাড়ী থেকে নেমে দৌড়াইয়া দীঘির পূর্ব পাড়ের মৎস্য ভবনের সামনে থেকে ছালামত উল্লাহকে গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। ছালামত কাউন্সিলর বাচাও বাচাও বলে চিৎকার করলে সিএনজি গাড়ী দ্রুত তাকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে।পরে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিন হিন্দুপাড়ার চরপাড়া সড়কের তপুজ্জাইলার বাড়ীর পাশে নিয়ে গিয়ে রড়, হাতুডি, ইলেকট্রিক্স তার ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাত পা গুড়িয়ে দিয়ে মাঠিতে পেলে চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার কর মহেশখালী থানায় নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহেশখালী পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে ছালামত উল্লাহর সাথে যখন ঘটনা হয় তখন আমি কক্সবাজারে ছিলাম। আমি ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয়। পরে লোকজন আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। তবে আহত কাউন্সিলর ছালামত উল্লাহর সাথে নানা বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রায় সময় মারমারি হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখনো আমাদের কাছে লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মকছুদ মিয়ার পিতা মো: হাশেম একজন চিহ্নিত তালিকাভক্ত যুদ্ধাপরাধী। তার বড়ভাই আবু বক্কর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, ছোটভাই কায়সার মহেশখালী পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরেকভাই আতা উল্লাহ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তার পরিবার যুদ্ধাপরাধের অপরাধ আড়াল করতে রাজনৈতিক ছাত্র ছায়ায় থেকে ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান করেন বলে দাবি তাদের।

W/R


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আলোকিত কক্সবাজারে ব্যবহৃত সকল সংবাদ এবং আলোকচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বে-আইনি। স্বত্বাধিকারী alokitocoxsbazar.com দ্বারা সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM