ভারত ভালো নয় : ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০২০-০২-২০ ২০:২৯:০৭ || আপডেট: ২০২০-০২-২০ ২০:২৯:০৭

ডেস্ক নিউজ:

খুব শিগগিরই ভারত সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে সফরের আগেই ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের তাল কাটল তাঁরই কথাতে। ভারত সম্বন্ধে কড়া ভাষায় নেতিবাচক কথা বললেন ট্রাম্প। তিনি মন্তব্য করেছেন, মোদি খুব ভালো মানুষ; তাঁর ভীষণ পছন্দের মানুষ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সম্বন্ধে ভারতের মনোভাব ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভারতের ‘বাণিজ্যিক ব‌্যবহার’ ভালো নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মোদি ভালো বলেই তিনি ভারতে আসছেন। ভারত হলো বাণিজ‌্য শুল্কের রাজা। অতিরিক্ত কর চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ‌্য বিক্রিতে ক্ষতি করেছে ভারত।

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বরাবরই স্পষ্টবাদী, খামখেয়ালি, আপাদমস্তক ব‌্যবসায়ী মনোভাবের মানুষ বলেই জানে দুনিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু দেশগুলোর বিরুদ্ধেও তিনি এর আগে মুখের উপর সত্যি কথা বলে দিয়ে তাদের বিরাগভাজন হয়েছেন। অতীতে তাঁর কড়া কথা ভালোভাবে নেয়নি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপিন্স, ইসরায়েল, তাইওয়ান, কানাডা, ব্রিটেনের মতো বন্ধু দেশগুলো।

মার্কিন কূটনীতিক ও সংবাদমাধ‌্যমগুলোর দাবি, বন্ধু দেশগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প ভেবেচিন্তেই নেতিবাচক কথা বলে থাকেন। এটা তাঁর কৌশল। এভাবেই ভোকাল টনিক দিয়ে তিনি একটা মানসিক চাপ তৈরি করেন যাতে তাঁর উদ্দেশ‌্য সিদ্ধ হয় বা কাজের কাজটি হয়। ভারত সফরে এসে তিনি ভারতের সঙ্গে এমন একটা বাণিজ‌্য চুক্তি করতে চাইছেন যাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ হয় বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হার্লে ডেভিডসন বাইক, নানা কোম্পানির মোটর গাড়ি, উন্নত প্রযুক্তি, সরঞ্জাম, কৃষিজাত পণ্য, চিকিৎসা যন্ত্রাংশ, ডিজিটাল পণ্য-সহ সবরকম পণ্যের ওপর থেকে ভারত যাতে শুল্ক কমিয়ে নেয় বা তুলে নেয়। এটাই ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ‌্য। আপাদমস্তক তিনি একজন সফল ব‌্যবসায়ী। তাই ব‌্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই তিনি ভারতের নিন্দা করে ভারত সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছেন। এজন‌্য তিনি বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মানুষটি ভালো। কিন্তু সরকারের বাণিজ‌্য নীতি ও মনোভাব মোটেও ভালো নয়।

ভারতকে ‘শুল্কের রাজা’ বলে আগেও সম্বোধন করেছেন ট্রাম্প। আগামী ২৪ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে দু’দিনের ভারত সফরে আসছেন তিরি। তাঁর উপস্থিতিতে দু’দেশের মধ্যে সামরিক, বাণিজ্যিক একাধিক চুক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু নানা বিষয়ে মতানৈক্য ধরা পড়েছে দু’দেশের মধ্যে। যেমন, দিল্লি চায় ভারতীয় ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করুক ওয়াশিংটন। বিনা শুল্কে মার্কিন বাজারে নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যকে ঢুকতে দেওয়া হোক। যুক্তরাষ্ট্র এটা করতে না দিলে ভারতও মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাবে না।

অন‌্যদিকে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও বাণিজ্যিক শত্রু চীনকে রুখতে ভারতকে পাশে পাওয়া জরুরি। ভারত হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক জোটসঙ্গী। কিন্তু ভারসাম্যের খেলায় ভারতকে সেভাবে যুক্তরাষ্ট্র পাশে পাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রেের কথা ও নির্দেশ একতরফা শুনতে চায় না ভারত সরকার। এতে ক্ষোভ রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।

কারণ, সংঘ পরিবার, গেরুয়া শিবির, কংগ্রেস, বাম দলগুলি ও বিরোধীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কথা শুনে সরকার যেন কিছুতেই বাণিজ‌্যনীতি তৈরি না করে। বাণিজ‌্য চুক্তিতে ভারতের পাল্লা যেন ভারী হয়। তাই ট্রাম্পের সুরে সুর মেলাতে পারছেন না মোদিও।

মঙ্গলবার প্রিন্স জর্জ কাউন্টি-তে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ক্ষোভের সুরে বলেন, বাণিজ্যিক দিক দিয়ে ভারত আমাদের সঙ্গে মোটেও ভালো ব‌্যবহার করে না। এজন‌্য ভারতের সঙ্গে দ্রুত বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

সূত্রের খবর, ট্রাম্পের সফরের ঠিক আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজারের ভারতে আসার কথা ছিল বাণিজ‌্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চুক্তির শর্ত, বাক‌্যবন্ধ, বোঝাপড়া নিয়ে বেঁকে বসেন কেন্দ্রীয় বাণিজ‌্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। দু’জনের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র বের হয়নি। ফলে ট্রাম্পের আসন্ন সফরে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ‌্য চুক্তি হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

এদিকে. ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ‌্য চুক্তি হবে। তবে নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সূত্র:-কালের কণ্ঠ

ট্যাগ :