বিচক্ষণ কূটনীতির পরিচয় দিয়েছে ইরান!

প্রকাশ: ২০২০-০১-০৯ ১৮:২৮:৩৮ || আপডেট: ২০২০-০১-০৯ ১৮:২৮:৩৮

ডেস্ক নিউজ:

ইরাকের সেনাঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরান দাবি করেছে, হামলায় ৮০ জন ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাহত হওয়ার কোনো খবর আসেনি। উল্টো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করেছেন, ‘সব ঠিক আছে।’

এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ইরান আসলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি। উদ্দেশ্যটা ছিল বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা ইরানি জনগণের সামনে একটা লোক-দেখানো দৃশ্য তুলে ধরা। গতকাল বুধবার ভোররাতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইরানের ক্ষুব্ধ জনতা সান্ত্বনা পাবে এবং একই সঙ্গে ইরানের আন্তর্জাতিক কূটনীতিও সফলভাবে রক্ষা করা হবে—এ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য ইরানের ছিল না বলে পর্যবেক্ষকদের দৃঢ় বিশ্বাস।

ইরানের বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এরই মধ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা না ঘটলে আর কোনো হামলা চালাবে না তেহরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাৎক্ষণিক এমন কোনো মন্তব্য করেনি বা এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যার জেরে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরম দ্বন্দ্বে লিপ্ত ইরান কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই আসলে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তাই বলে উত্তেজনা প্রশমিত হতে চলেছে, এমনটাও ভাবছেন না তাঁরা।

এমন দোলাচলের মধ্যে পর্যবেক্ষকরা আরেকটি প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানের দিক থেকে গতকাল কেন হামলাটা হলো? এর পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। প্রথমত, সোলাইমানি হত্যার ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়ার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বটে, তবে ইরানি সেনাবাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে সম্ভবত তাঁর পূর্ণ ধারণা নেই। সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের মাত্রা বিবেচনায় নিলে অবশ্য এ তথ্য বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

দ্বিতীয়ত, ইরান গতকাল স্রেফ ফাঁকা আওয়াজ দিতে চেয়েছে। ইরান তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্রও জানে, অনির্দিষ্টকাল ধরে লড়াই চালানোয় কারো কোনো লাভ নেই।

তৃতীয়ত, এমনও হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরান নিজেদের সামরিকভাবে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে এবং এ জন্যই গুটিকয়েক নিষ্ফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের মনোভাব সত্যিই তেমন ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন। সূত্র-কালেরকণ্ঠ

ট্যাগ :