আলোকিত কক্সবাজার“প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে বিনামূল্যে বিতরণ করলেন সেনাবাহিনী" - আলোকিত কক্সবাজার “প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে বিনামূল্যে বিতরণ করলেন সেনাবাহিনী" - আলোকিত কক্সবাজার

“প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে বিনামূল্যে বিতরণ করলেন সেনাবাহিনী”

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ১২:৪৭:২৭ || আপডেট: ২০২০-০৫-২২ ১২:৪৭:২৭

ওয়াহিদ রুবেল:

করোনাভাইরাসের কারণে কক্সবাজারে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষ। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। করোনা পরিস্থিতি উত্তোরণ না হতেই ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের আক্রমণ। আর দুইএকদিন পরে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে।

অতীতের মতো যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলার মতো করোনা এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরবর্তী সময়ে জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী এবং কাঁচা বাজারের চাহিদা পূরণ করতে সেনা বাজার ও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কক্সবাজার শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেনা বাজার ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিনামূল্যে ১ হাজার পরিবারের মাঝে এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ও ২’শ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

সেনা বাহিনীর দেয়া পণ্যের তালিকায় ছিল, ‌‌‌‍চাউল, আটা, তৈল, লবন, ডাল এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন ও ঘূর্ণিঝড আম্ফানের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারনে প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারেনি। সেনাসদস্যরা সেসব কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সবজি ক্রয় করে সেনাবাজারের মাধ্যমে অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেন।

এতে একদিকে যেমন কৃষকরা তাদের ন্যায্য মূল্য পেয়েছে, তেমনি অন্যদিকে অসহায় মানুষ নিজেদের প্রয়োজনীয় পণ্য পেয়ে উৎফুল্লা হয়েছে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এমন মহৎ কাজের জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। সহযোগিতা পাওয়া মানুষের মতে, ঈদের চেয়ে সেনাবাহিনীর এ উপহার তাদের মাঝে বড় আনন্দের।

সরেজমিনে কক্সবাজার জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্থাপিত সেনাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সহযোগিতা নিতে আসা মানুষের জন্য সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাজারের প্রবেশ পথে ছিল জীবাণুনাশক বুথ ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো তাদের প্রয়োজনীয় বাজার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংগ্রহ করছেন।

বাজার করতে আসা বৃদ্ধ ছগির আহমদ আলোকিত কক্সবাজারকে জানান, করোনার কারণে গত দুইমাস কোন কাজ করতে পারিনি। যা সঞ্চয় ছিলো তাও শেষ। বেশ কয়েকদিন ধরে বাজার ক্রয় করতে হিমিছিম খাচ্ছি। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেয়ে আমি আবেগ আফ্লুত।

রহিমা খাতুন নামে অপর এক ব্যক্তি জানান, করোনার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যানচলাচলের উপর কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ফলে সহজেই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে পারিনি। আজ শুধু সেবাই নয়, বিনামূল্যে ওষুধও পেয়েছি।

কক্সবাজার সৈকতের ফটোগ্রাফার রহিম উল্লাহ জানান, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে সরকার কক্সবাজারে পর্যটক আসা নিষিদ্ধ করেছেন। সাথে আমাদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেল। কারণ পর্যটকদের ছবি তুলেই আমরা আয় করি। আর আমার উপার্জন দিয়ে পরিবার চলতো। শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়া গেলেও এখন কঠিন সময় পার করছি।

তারা জানান সেনা বাহিনীর এ সহযোগিতা ঈদের আগেই যেন তাদের ঈদ। কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা যেন অকুলে কুল পেয়েছি।

রামু সেনানিবাসে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক দিক নির্দেশনায় সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে অসহায় এবং প্রান্তিক আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রাকে সহজ করার জন্য রামু সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে উপজেলা পর্যায়েও এ ধরনের বাজারের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়। সম্পূর্ণ অনাড়ম্বর ও ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজন উপলক্ষে রামু সেনানিবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সেনাসদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রাম জেলার ৪টি উপজেলায় গত ২৪ মার্চ থেকেই মাঠে আছে সেনাবাহিনী। করোনার ভয়াবহতার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বিতরন করছেন তারা। এছাড়া নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী কর্মহীন অসহায় পরিবারের মানুষগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছেন। বর্তমানে তারা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বাঁধ পুনঃনির্মাণে স্থানীয়দের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জনসাধারণদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর ১০টি মেডিক্যাল টিম বৃহস্পতিবার থেকে একযোগে কাজ করছে।

ট্যাগ :

আর্কাইভ

জুন 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মে    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
দৃষ্টি আকর্ষণ