শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

প্রত্যাবাসনে প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রত্যাবাসনে প্রস্তুতি সম্পন্ন

ওয়াহিদ রুবেল, কক্সবাজার ২০ আগস্ট ১৯ইং

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবার আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইউএনএইচসিআরর সহযোগাতায় ‘সম্মত ভেরিফিকেশন ফর্ম’ অনুযায়ী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে তালিকা প্রদান করা হয়েছিলো তাতে মিয়ানমাররের স্বীকৃতি প্রাপ্ত ১০৩৮ পরিবারের মোট ৩৩৯৯ জন রোহিঙ্গা। আগামিকাল ২২ আগস্ট এসব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য তারিখ রয়েছে।

ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যে তালিকা চূড়ান্ত করেছে, ইউএনএইচসিআর ওই তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের মঙ্গলবার ক্যাম্প ২৬ এ সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকারে রাখাইনে তারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় কি না, জানতে চাওয়া হবে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, ইউএনএইচসিআরর সহযোগাতায় ‘সম্মত ভেরিফিকেশন ফর্ম’ অনুযায়ী ৫২১৩ পরিবারের ২২৪৩২ জন রোহিঙ্গার পারিবারিত তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে হস্তান্ত করা হয়। মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উক্ত তালিকা হতে ৭টি ব্যাচে মোট ১০৫৬ পরিবারের ৩৪৫০ জন রোহিঙ্গার পরিচয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছেন। ২২ আগস্ট তাদের প্রত্যাবাসনের সব ধরনের প্রস্তুতিও আমাদের নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম মৈত্রী সেতু ও টেকনাফের নাফ নদের কেরুনতলীর প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে ওই সব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

এদিকে রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন, নাগরিকত্বসহ নিরাপত্তা নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে চান তারা। তাদের দাবি পুরণ না হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে।

কুতুপালং ২নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ও আরকান রোহিঙ্গা ফর সোসাইটি হিউম্যাস রাইটস’র সভাপতি মহিবুল্লাহ জানান, মৌলিক অধিকার পূরণ হলে একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশে থাকবে না। নিজ ইচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাবে।

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯ এর মাঝি মুছা আলী বলেন, মিয়ানমার সরকার আমাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী হওয়ার খবরে আমরা খুশি। নিজ দেশে শান্তিতে থাকতে চাই।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২৬ এর মাঝি বজরুস আলম বলেন, সোমবার সকাল থেকে শালবাগান ক্যাম্প হল রুমে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ও ক্যাম্পভিত্তিক রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে একই ক্যাম্পের হল রুমে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সাথে মিটিং হয়েছে। উক্ত মিটিংএ মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কুতুপালং ক্যাম্প ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মুহাম্মদ নূর বলেন, মিয়ানমার সরকারের ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে নব্বই দশকে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সে সময় থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসা শুরু করে। পলিথিনের ১০ বাই ১২ বা ১৫ বাই ২০ সাইজের একটি ঘরে ৫-১০ জন লোক গাদাগাদি বাস করা কত কষ্টের তা এক মাত্র ভুক্তভোগীই জানেন। তাই নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলেই আমরা স্বউদ্যোগে মিয়ানমার ফিরে যাবে রোহিঙ্গারা।

তবে, অনেক রোহিঙ্গার দাবি, মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিচারের নিশ্চয়তা না পেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে।

এদিকে, ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দুইদিন পূর্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শনে আসেন মিয়ানমার সরকার গঠিত ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারির (আইসিআই)’ একটি দল।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বালুখালী ৯ নং ক্যাম্পের ৬টি ব্লক, জি-১৮, জি- ১৯, জি-২০, জি-১, সি-১, সি-২ ব্লকের বিভিন্ন বাসস্থান ঘুরে দেখেন এবং জামতলী ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন তারা।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফিলিপাইনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজারিও মানালো। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মিয়ানমারের সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান মিয়া থেইন, জাতিসংঘে জাপানের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি কেনজো ওশিমা এবং ইউনিসেফের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. অন তুন থেট।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা বাহিনী, বিজিপি, উগ্রপন্থী রাখাইন যুবকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ওপর করা নির্যাতনের চিত্র সরেজমিন দেখতে উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন মিয়ানমার তদন্ত প্রতিনিধি দল।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আলোকিত কক্সবাজারে ব্যবহৃত সকল সংবাদ এবং আলোকচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বে-আইনি। স্বত্বাধিকারী alokitocoxsbazar.com দ্বারা সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM