পরোয়ানা নিয়ে বহাল তবিয়তে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান নজরুল

প্রকাশ: ২০২০-০১-০৫ ০০:৫৭:১০ || আপডেট: ২০২০-০১-০৫ ০০:৫৭:১০

ওয়াহিদ রুবেল:

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়াল এর ৩৪ বিধি’র ১ ধারা মতে, “ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান বা সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্যকে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করবেন”। অথচ একটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহিত হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজও। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন, কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১৬ সালে ২৩ ডিসেম্বর রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জুমছড়ি নাপিত বইস্যার ঘাট নামক স্থানে দুর্বৃত্ত্যের হামলায় গুরুত্বর আহত হন দক্ষিণ জুমছড়ি এলাকার মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে নুর আহমদ। এ ঘটনায় আহত নুর আহমদ বাদি হয়ে সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১(রামু) মামলা দায়ের করেন (সিআর মামলা-০২/২০১৭)। আদালত মামলটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করতে রামু থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিআর মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন (যা রামু থানার মামলা নং-১৫/১৭)। উক্ত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২৭ সেপ্টম্বর ২০১৮ সালে আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশের অভিযোগপত্র পেয়ে আদালত গত ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফাতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সাথে আসামীদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ প্রদান করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ান ও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশনা পেয়ে রামু থানা পুলিশ আসামী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার ও তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের অভিযানে যান। কিন্তু আসামী নজরুল পালাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। একই সাথে তার নিজস্ব সম্পত্তি না থাকায় সম্পত্তি ক্রোকও করা সম্ভব হয়নি বলে আদালতকে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো: নুরুল্লাহ ভুঁইয়া। ২০১৯ সালের ৪ জুলাই ক্রোকি পরোয়ানা বিনা তামিলে বিজ্ঞ আদলতে প্রেরণ করেন তিনি। বর্তমানে পলাতক আসামী নজরুল ইসলাম এর মামলাটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির জন্য রাখা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন পুলিশের খাতায় পলাতক আসামী সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজও করছেন নিয়মিত। ইউনিয়ন পরিষদের বিধি মতে তার পদ শূণ্য হওয়ার কথা অথচ তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।

আইনজীবীদের মতে, যে কোন চেয়ারম্যান বা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে অভিযুক্তদের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধি রয়েছে। আইনে এটি স্পষ্ট। এক্ষেত্রে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বহাল থাকার বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মামলায় ওয়ারেন্ট থাকার বিষয়টি অবগত রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, রবিবারে জামিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায় বলেন, অনেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ হয়েছে বলে শুনি। কিন্তু থানা বা আদালতের মাধ্যমে যদি তথ্য না আসে তবে, আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারি না। তারপরও বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো।

ট্যাগ :