দিন মুজুরের মুজুরি থেকে চেয়ারম্যানের কমিশন দেড়শত টাকা !

প্রকাশ: ২০২০-০১-০৫ ০০:৫৩:৩৩ || আপডেট: ২০২০-০১-০৫ ০০:৫৩:৩৩

বিশেষ প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে কর্মরত দিন মুজুরের দৈনিক মুজুরি ৭০০ টাকা। শ্রমিকের উক্ত বেতন থেকে দেড়শত টাকা কমিশন নেন কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবুল কালামের। রেললাইন প্রকল্পে কর্মরত ভোক্তভ‚গী শ্রমিকরাই এমন অভিযোগ তুলেছেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের শুরু থেকে প্রায় তিন’শ হত দরিদ্র শ্রমিকের দৈনিক হিসেবে প্রায় সাড়ে তের লাখ টাকার কমিশন নেন তিনি। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন অপকর্ম করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। টাকা আত্মসাত করলেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না শ্রমজীবী মানুষগুলো। এ অবস্থায় শ্রমিকের রক্তচোষা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন সচেতন মহল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রæত এগিয়ে চলছে। এ কাজটি বাস্তবায়ন করছেন চায়না ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। উক্ত প্রতিষ্ঠানের আওতায় কক্সবাজর সদর উপজেলার নাপিতখালী এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি কাজে নিয়োগ পাওয়া শ্রমিকের মূল্য পরিশোধ করতে বেসরকারি ব্যাংক ‘ইউসিবিএল’ ঈদগাঁও শাখায় হিসাব খোলা হয়েছে। দৈনিক ৭০০ টাকা হিসেবে তাদের হিসেবে প্রতিমাসে জমা হয় ২১ হাজার টাকা। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল কালাম শ্রমিকদের হিসাব বই কুক্ষিগত করে রাখায় ব্যাংক থেকে শ্রমিকরা টাকা উত্তোলন করতে পারেননা। মাসে শেষে চেয়ারম্যান নিজস্ব লোক দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক থেকে ২১০০০ টাকা উত্তোলন করলেও শ্রমিকদের হাতে তুলে দেন ১৬৫০০ টাকা। কোন প্রক্রিয়ায় এসব টাকা তিনি আত্মসাৎ করছেন তা বলতে পারেন নি কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, যদি কোন প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ করতো তবে, দরপত্র পাওয়া কোন প্রতিষ্ঠান শ্রমিকের বেতনের একটি লভ্যাংশ পায়। কিন্তু চায়না প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি কোন প্রকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। অথচ চেয়ারম্যান আবুল কালাম জোর করে শ্রমিকদের কাছ থেকে দৈনিক দেড়শত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি শ্রমিক নির্যাতন বলেও মনে করেন তিনি।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, মধ্যস্বত্তভোগী হিসেবে চেয়ারম্যান প্রতিজন শ্রমিকের কাছ থেকে মাসে ৪৫০০ টাকা কেটে রাখেন।
তারা বলেন, দৈনিক ৭০০ টাকা হিসেবে চায়না কোম্পানি শ্রমিকের ব্যাংকে টাকা জমা দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান শ্রমিকদের দেন ৫৫০ টাকা। চোখের সামনে চেয়ারম্যান শ্রমিকদের শোষন করলেও কোন প্রতিবাদ করা যায়না। প্রতিবাদ করলে তার চাকুরি চলে যাবে।

সদ্য চাকুরি ছেড়ে দেয়া এক শ্রমিক জানান, শ্রমিকের চোখের পানির দাম নেই কারো কাছে। তাই কেউ কথা বলতে চায় না। চায়না কোম্পানির লোকজনও বিষয়টি জানে কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া নেই।

তিনি আরো জানান, চায়না কোম্পানি আমাদের একাউন্টে বেতনের টাকা জমা দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে এসব টাকা জমা হয় চেয়ারম্যানের একাউন্টে। এ অবস্থায় দিন দিন শ্রমিকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে।

এদিকে প্রতিবেদকের কাছে বক্তব্য দেয়ার পর নিজেদের নিরাপত্তা ও চাকুরি নিয়ে সঞ্চয় প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তু করে নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাদের বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

জানতে চাইলে চায়না কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপামের্ন্টের প্রধান মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা শ্রমিকের বেতন একাউন্টের মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রদান করছি। চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের কোন চুক্তিও নেই, দরপত্রও দেয়া হয়নি। চেয়ারম্যান যদি শ্রমিকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে সেটি তিনি বলতে পারবেন। তবে, শ্রমিকের সাথে তার (চেয়ারম্যানের) কোন চুক্তি হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে শ্রমিকের মুজুরি থেকে কমিশনের টাকা নিচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

ট্যাগ :