নোটিশঃ
যান্ত্রিক  কারনে সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ
ক্যাম্পে তৎপর জঙ্গি সংগঠন এআরএনও : অর্থযোগান দাতা ইউচুপ প্রতিবেদন-১

ক্যাম্পে তৎপর জঙ্গি সংগঠন এআরএনও : অর্থযোগান দাতা ইউচুপ প্রতিবেদন-১

ওয়াহিদ রুবেল, কক্সবাজার ২৬ অক্টোবর ১৯ ইং

রোহিঙ্গা ক্যাম্প হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জঙ্গি সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা ন্যাশন অর্গানাইজেশন (এআরএনও)। লন্ডন থেকে এ সংগঠনের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ক.ক.লিন নামে এক রোহিঙ্গা সংগঠনের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করছেন। সম্প্রতি কুতুপালং এলাকার বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে তাকে।

তবে, ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহের আড়ালে কর্মী ও সমর্থক বৃদ্ধি করছেন এ সংগঠন। এমনটাই দাবি রোহিঙ্গাদের। গেল ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ আয়োজনের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দিয়েছেন এ সংগঠন।

মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, দুবাই, ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়ার জাপান, মালয়েশিয়া এবং আমেরকিা থেকে সংগঠনের অর্থ আসে।

বিশেষ করে সৌদি আরব থাকা তাদের আমিরগণ সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ক্যাম্পে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

সংগঠনের বাংলাদেশের প্রধান ক.ক.লিন’র দাবি তিনি গত কয়েক মাস পূর্বে সংগঠন ছেড়েছেন। তবে, এখনো এ সংগঠনের আদর্শ নিয়ে চলি আমরা। কারণ এটি একটি আদর্শীক সংগঠন। এ সংগঠনে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই।

তার দেয়া তথ্য মতে, এক সময় সংগঠনের হেডকোয়ার্টাস বাংলাদেশে থাকলেও এখন তা লন্ডনে হস্তানান্তর করা হয়েছে। সংগঠনের প্রধান নুরুল ইসলাম লন্ডন থেকে “এআরএনও” পরিচালিত করছেন। তার শালী (স্ত্রীর বোন) চট্টগ্রাম বারের আইনজীবী এ্যাডভোকেট রেজিয়া সুলতানা বাংলাদেশের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুবিধা পাওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের নামে গঠিত সংগঠনটি শুরুতে তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারেনি। কিন্তু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নিপিড়ন শুরু হওয়ার পর থেকে সক্রিয় হয়ে উঠেন তারা। বিভিন্ন সময় প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেয় সংগঠনটি। তাদের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি ড: হ্লা মাইন্ট, বাংলাদেশের ক.ক.লিন, কানাডার নুর হাশিম, জাপানের জ্যা.মিন.টাট, যুক্তরাজ্যে রনি এবং আমেরিকার প্রতিনিধি ড: হাবিব উল্লাহর নামে প্রচার করা হয়।

তবে, সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছেন মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু থানার নাইংছং চৌধুরী পাাড় এলাকার মাস্টার শফি উল আলমের ছেলে ইউচুপ। তিনি সৌদ আরবে অবস্থান করেন। সেখানে বসে নির্যাতিত রোহিঙ্গার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে সহানুভূতি পাওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমান অর্থ সংগ্রহ করেন। আর সংগৃহিত অর্থ ক.ক.লিন ও তার সহযোগিদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় করে থাকেন। তবে, এ সংগঠনের ব্যয়কৃত অর্থ সংগৃহিত অর্থের সিকি পরিমাণ বলে দাবি করেছেন রোহিঙ্গারা। বাকি অর্থ নিজের কাছে গচ্ছিত রাখেন। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের মাঝে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ক্যাম্পে তৎপরতা শুরু করেছেন। রোহিঙ্গা যুবকদের টার্গেট করে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন রোহিঙ্গারা।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সংগঠনের বাংলাদেশের প্রধান ক.ক.লিন এর প্রকৃত নাম কলিম উল্লাহ প্রকাশ ভেককু। তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার নাইংছং এলাকার ওককাটা মৃত জহিরুল হকের ছেলে। তার ছোটভাই ইব্রাহিম আরকান রোহিঙ্গা ন্যাশন অর্গানাইজেশন (এআরএনও) সংগঠনের ব্যানারে জার্মানিতে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের সমাবেশের বিপুল অর্থের যোগান দিতে তিনি বাংলাদেশে আসেন। ঐদিন ক.ক.লিন ও ইব্রাহীম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে রোহিঙ্গাদের মাঝে নিজেই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণও করেন তারা। যা ইব্রাহীম নিজের ফেইসবুক আইডিতে ভিডিও আপলোড করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেরও বিরোধীতা করে নিজের ফেইসবুকে ভিডিও বার্তা দেন ইব্রাহীম। এদিকে ক.ক.লিন, ইব্রাহীম ছাড়াও বাংলাদেশে ইউচুপের হয়ে কাজ করেন তার ছোটবোনের জামাই কায়সার। তিনি চট্টগ্রামে বসবাস করেন। এছাড়া তাদের আরো দুই ভাই কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ায় বসবাস করেন।

ক.ক.লিন (কলিম উল্লাহ) জানান, রোহিঙ্গারা সব সময় নির্যাতিত। তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলতে আমাদের “নন পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন” “এআরএনও” গঠন করা হয়েছে। আগে এ সংগঠনের প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে ছিলো। এখন লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের সম্পর্কে বাংলাদেশের সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থা অবগত রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে যেসব গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে তাদের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। এসব লিখে কিছুই হবে না। কারণ আমরা জঙ্গি সংগঠন নয়।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: ইকবাল হোসেন জানান, ক্যাম্পে যে কোন ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এ সংগঠনের বিষয়ে আমরা আরো খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আবহাওয়া

COX'S BAZAR WEATHER