আলোকিত কক্সবাজার“কুতুবদিয়া স্বেচ্ছাসেবক কমিটি থেকে শিবির ক্যাডার জাহেদকে অব্যাহতি” - আলোকিত কক্সবাজার “কুতুবদিয়া স্বেচ্ছাসেবক কমিটি থেকে শিবির ক্যাডার জাহেদকে অব্যাহতি” - আলোকিত কক্সবাজার

“কুতুবদিয়া স্বেচ্ছাসেবক কমিটি থেকে শিবির ক্যাডার জাহেদকে অব্যাহতি”

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ২৩:৩৬:৩২ || আপডেট: ২০২০-০৫-২২ ২৩:৩৬:৩২

মো: আরফাত:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত একটি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক কমিটির প্রধান ও শিবির ক্যাডার জাহিদুল আটকের ৪ দিনের মাথায় এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বৃহস্পতিবার তার অব্যাহতির বিষয় নিয়ে নিজের স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে ব্যক্তির কোন অপরাধ উপজেলা প্রশাসন নিবে না বলে জানানো হয়। একই সাথে জাহিদের শিবির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।

এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের রাজনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজ ফেসবুক আইডিতে আপত্তিকর লেখালেখির অভিযোগে জাহিদ নামের ওই শিবির ক্যাডারকে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ তাকে গত ১৭ মে ভোর রাতে আটক করে।

আটকের পর কক্সবাজারের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে উক্ত শিবির ক্যাডারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস জানান-‘দ্বীপটির ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নেই জামায়াত-শিবিরের তৎপরতা বেশি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হবার কারনে দ্বীপের জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারগণ বরাবরই আমার ওপর নানা কারণে ক্ষিপ্ত।’

তিনি জানান, শিবির ক্যাডার জাহেদুল ইসলাম কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর লেমশীখালী গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মওলানা মঈনুল হক কুতুবীর পুত্র। জাহেদুল দ্বীপের আল ফারুক মাদরাসা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তার পুরো পরিবারই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

থানার ওসি জানান, শিবির ক্যাডার জাহিদ তার ফেসবুক আইডিতে প্রায়শ সরকার বিরোধী আপত্তিকর লেখালেখি করার কারণে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে আটকের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ১৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ তার ঘর ঘেরাও করলে সারা রাত ধরে পুলিশকে নাকানি-চুকানি খেতে হয়েছে। পুলিশ যখন তাকে ধরার জন্য ঘর ঘিরে ফেলে তখনই দরজা-জানালা সব বন্ধ করে দিয়ে জঙ্গি ষ্টাইলে ওই শিবির ক্যাডার পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ারও চেষ্টা করে।

এমনকি ঘরের ভেতর থেকে মোবাইলে ফেসবুক লাইভ দিয়ে জাহেদুল নামের ওই শিবির ক্যাডার দ্বীপবাসীকে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ভোরের দিকে পুলিশ তাকে আটক করতে সমর্থ হয়।

খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, আটক হওয়া শিবির ক্যাডার কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের গঠিত ত্রাণ বিতরণের স্বেচ্ছাসেবক কমিটির একটি ইউনিয়ন শাখার প্রধান। উপজেলা প্রশাসন দ্বীপে এরকম ১৩০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু উক্ত কমিটিতে সরকার সমর্থিত সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্থান হয়নি। এ সব বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেজবাহুর রহমান তুহিন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু জাফর সিদ্দিকী ও যুগ্ম আহবায়ক সেলিম উদ্দিন লিটন জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক কমিটিতে তাদের সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীকে রাখা হয়নি। বরং বেশির ভাগই স্থান পেয়েছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত উক্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলেন-‘সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম পিতা-মঈনুল হক নামে এক স্বেচ্ছাসেবককে পুলিশ আটক করে এবং পরবর্তীতে শুনা যায় যে, সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

প্রকৃতপক্ষে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অবগত ছিল না। স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে নিয়োজিত করার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন তাকে শুধুমাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসাবেই বিবেচনা করত। এক্ষণে তার উল্লিখিত বিতর্কিত বিষয়ের খবর শুনার পর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তাকে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’

ইউএনও জিয়াউল হক মীর এ বিষয়ে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দায়-দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন বহন করবে না।

ট্যাগ :

আর্কাইভ

জুন 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মে    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
দৃষ্টি আকর্ষণ