আলোকিত কক্সবাজারকী কাণ্ড ঘটিয়ে ছাত্রজনতার রোষানলে পড়েছিল পাকিস্তানিরা? - আলোকিত কক্সবাজার কী কাণ্ড ঘটিয়ে ছাত্রজনতার রোষানলে পড়েছিল পাকিস্তানিরা? - আলোকিত কক্সবাজার

কী কাণ্ড ঘটিয়ে ছাত্রজনতার রোষানলে পড়েছিল পাকিস্তানিরা?

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৯ ১৭:৪১:৪০ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৯ ১৭:৪১:৪০

ডেস্ক নিউজ:

সেলিম মালিক, সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির, নাসির জামসেদ আর উমর আকমলদের কেউ আর এখন আর নামি ক্রিকেটার মানেন না, মানতে চান না। মানার কোন কারণও নেই। প্রত্যেকে ক্রিকেট জুয়ায় লিপ্ত হয়ে নিজেদেরকে করেছেন কলুষিত। সবাই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে নিন্দিত।

নানারকম ফিক্সিং কেলেংকারির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। বিশ্বে যত ম্যাচ ফিক্সিং কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে তার বড় অংশের সঙ্গে কোন না কোনভাবে জড়িয়ে আছে পাকিস্তানিদের নাম। পাশাপাশি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নারী কেলেংকারি ও অসামাজিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার ঘটনাও আছে প্রচুর।

মোদ্দা কথা, পাকিস্তানের ক্রিকেট ও ক্রিকেটাররা বেশ কিছুদিন ধরেই রয়েছে ইমেজ সংকটে। এ তো গেল ম্যাচ ফিক্সিং, নারী কেলেংকারি ও অসামজিক কার্যক্রমের ফিরিস্তি। ভিনদেশে গিয়ে পাকিস্তানিদের অসৌজন্যতামূলক আচরণের ঘটনাও কিন্তু আছে।

একটি স্বাধীন দেশ ও তার মানুষকে কিভাবে সম্মান-শ্রদ্ধা জানাতে হয়, সেই সামান্য সৌজন্যতাবোধ, নম্রতা, বিনয়, সৌজন্য আর ভদ্রতাজ্ঞানের ঘাটতির জ্বলন্ত নজিরও আছে পাকিস্তানিদের। ভাবছেন, কবে আবার কোথায় গিয়ে কোন কাণ্ড ঘটাল পাকিস্তানিরা?

নাহ! এটা সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা নয়। অনেক আগের কথা। শুনলে অবাক হবেন, ঘটনাটি ঘটেছিল বাংলাদেশের মাটিতে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবার খেলতে এসেই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক আচরণ করে চরমভাবে সমালোচিত ও নাজেহাল হয়েছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মুক্তিকামী বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন থামাতে ইতিহাসের বর্বরোচিত পৈশাচিক হামলায় ৩০ লাখ মানুষকে অকাতরে হত্যা আর কয়েক লাখ মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেও শেষ রক্ষা হয়নি পাকিস্তানিদের। একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিকামী বীর বাঙালির হাতে চরমভাবে পর্যুদস্ত হয় পাকিস্তানিরা।

তারপর ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার খেলতেও এসেও বাংলাদেশিদের সঙ্গে অসৌজন্যতামূলক আচরণ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তবে ‘ইট ছুড়লে, যেমন পাটকেল খেতে হয়’, তেমনি ঐ ন্যাক্কারজনক আচরণের চরম শিক্ষাও পেয়েছিলেন মাজিদ খান, জাভেদ মিঁয়াদাদ, সিকান্দার বখত, ইকবাল কাশিম প্রমুখরা।

আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে বাংলাদেশে খেলতে এসে চরম অসৌজন্যতামূলক আচরণ করে নিজেদের চরম হঠকারিতার নগ্ন প্রমাণ দিয়েছিল পাকিস্তানিরা। সেবার ভারত সফরের একপর্যায়ে বাংলাদেশে একটি তিনদিনের আর একটি দুইদিনের ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল পাকিস্তানিরা।

সেই সফরের প্রথম দুইদিনের ম্যাচটি ছিল চট্টগ্রামে। কিন্তু রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছেই চরম অসৌজন্যতামূলক আচরণ করে বসে পাকিস্তানিরা। তাদের বাজে আচরণের প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল চট্টগ্রামের ছাত্রজনতা।

পাকিস্তানি ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের অমন আচরণের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের দুইদিনের ম্যাচটি শেষ দিনের দেড় সেশন আগেই পণ্ড হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঢাকার তিনদিনের ম্যাচটিও বাতিল করা হয়।কী ঘটেছিল সেবার চট্টগ্রামে? পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা কী কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, যার কারণে ছাত্রজনতার ক্ষোভ ও বাধার মুখে চট্টগ্রামের দুই দিনের ম্যাচ পণ্ড হয়েছিল?

জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে সে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের সেই ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে ইনিংসের সূচনা করা রকিবুল হাসান। তারও দুই বছর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করা রকিবুল হাসান একদম মাঠে বসেই সে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন।

পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা ফুলেল শুভেচ্ছার জবাবে ‘নামাস্তে’ দিয়েছিল : রকিবুল হাসান

‘খুব ভাল মনে আছে সে ম্যাচের স্মৃতি। তখন ক্যাপ্টেন হীরা (শফিকুল হক হীরা) ভাই। পাকিস্তান টিম তখন ভারত সফরে এসেছিল। সেই সফরের একটা পর্যায়ে বাংলাদেশে একটি তিনদিনের আর একটি দুইদিনের ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তা খেলতেই বাংলাদেশে এসেছিল পাকিস্তানিরা।’

‘তবে ঐ সময় যিনি পাকিস্তানের অধিনায়ক, সেই আসিফ ইকবাল দলের সঙ্গে আসেননি। তিনি ভারতেই থেকে গেছেন। ভারতের হায়দ্রাবাদে তার মামার বাড়ি। পাকিস্তান দল যখন বাংলাদেশে আসে, আসিফ ইকবাল তখন হায়দ্রাবাদে মামার বাড়ি গিয়েছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল ঢাকায় তিনদিনের ম্যাচ খেলার। কিন্তু চট্টগ্রামে দুইদিনের ম্যাচ শেষদিন মধ্যাহ্ন বিরতির পর বাতিল হলে তার আর বাংলাদেশের মাটিতে খেলা হয়নি। তিনি অবশ্য ঢাকায় এসেছিলেন। তার আগেই চট্টগ্রামে গন্ডগোল হওয়ায় ঢাকার তিন দিনের ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।’

তখন ভারতে পাকিস্তানের যে বহরটি এসেছিল, তার বাকি সবাই এসেছিলেন বাংলাদেশে? ইমরান খান কি ছিলেন?

‘হ্যাঁ! ইমরানও ছিলেন। তবে চট্টগ্রামের ম্যাচটি খেলেননি। তার ইনজুরি ছিল। হোটেল আগ্রাবাদে বিশ্রামে কাটিয়েছেন ইমরান। মাঠে আসেননি। মাজিদ খান ক্যাপ্টেন্সি করলো। আমি তো ব্যাটিং করছিলাম। আমি জ্বলন্ত সাক্ষী। আমি আউট হবার পরই শুরু হয় গন্ডগোল।’

কী ঘটেছিল তখন? ঠিক কী কারনে ঐ ম্যাচ পণ্ড হয়ে গেল? সেটা কি মাঠের কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে?

‘না না। ঘটনার সূত্রপাত মাঠে নয়, বিমান বন্দরে। প্রথা মেনে অতিথি দলকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয় বিমানবন্দরে। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের হাতে ফুলের মনোরম তোড়া আর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের যখন চট্টগ্রামের সংগঠকরা ঐ ফুলেল সংবর্ধনা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখন ধন্যবাদ বা সালাম-আদাবের বদলে পাকিস্তানিরা ক্রিকেটাররা ‘নামাস্তে’ দিয়েছিলেন। সেটাই চট্টগ্রামের সংগঠকদের মনে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল মাঠে। প্রথমে বিক্ষুদ্ধ দর্শকদের একাংশ যার বেশিরভাগই বয়সে তরুণ, ছাত্রজনতা- তারা গ্যালারির ভেতরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অসৌজন্যতামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল।’

‘একপর্যায়ে তা রুপ নিলো ক্ষোভে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা উত্তেজিত হয়ে একসময় গ্যালারি টপকে মাঠে ঢুকে খেলা পণ্ড করে দেয়। কেউ কেউ উত্তেজিত হয়ে এটা ওটা ছুড়েও মারেন। আমরা তখন ব্যাটিংয়ে আর পাকিস্তানিরা ফিল্ডিং করছিল। যে যার মতো প্রাণপন ছুটে ড্রেসিংরুমে আশ্রয় নিয়েছিল। সেভাবে কেউ আহত হননি। তবে শুনেছি ফাস্টবোলার সিকান্দার বখত আর বাঁহাতি স্পিনার ইকবাল কাশিম সামান্য চোট পেয়েছিলেন।’

‘উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়া পাকিস্তান দল এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমেই আটকে ছিল অনেকক্ষণ। উত্তেজিত ছাত্রজনতার ঐ বিক্ষুব্ধ আচরণ থামাতে পুলিশকে কয়েক দফা টিয়ার গ্যাসও ছুড়তে হয়েছিল। তারপরও পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সব ঠান্ডা হতে লেগে যায় তিন-চার ঘন্টা। খেলা পন্ড হয়েছিল দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার আগে। আর পাকিস্তান টিম এমএ আজিজের ড্রেসিংরুমে ছিল সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত।’

‘(পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের) আচরণ যেমনই হোক, বিদেশি দল বিধায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ওদিকে গ্যালারিতে আর ভিআইপি স্ট্যান্ডের বাইরে উত্তেজিত ছাত্রজনতা অনেকক্ষণ অবস্থান নিয়ে থাকায় আমাদের টিমকেও থাকতে হলো ড্রেসিংরুমে। পরে রাত ৮টা নাগাদ আমরা স্টেডিয়াম ছেড়ে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হোটেল আগ্রাবাদে ফিরি।’

‘সত্যি কথা বলতে কী, বিমানবন্দরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ঐ দুই হাত জড়ো করে ‘নামাস্তে’ বলা ও দেখানোটা চট্টগ্রামবাসী ভালভাবে নেননি, নেয়ার কথাও না।’

আজাদী পত্রিকার সম্পাদকের চায়ের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান মাজিদ খানের

জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে ৪০ বছর পর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সংঘটিত ছাত্র জনতার বিক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি নতুন তথ্য দিয়েছেন রকিবুল হাসান।

তিনি জানান, ‘বিমান বন্দরে ঐ অসৌজন্যতামুলক আচরণের পরও যদি পাকিস্তানি টিম ম্যানেজমেন্ট ইতিবাচক মানসিকতা দেখাত, তাহলে হয়তো বা পরিস্থিতি অত জটিল হতো না। ছাত্রজনতাও সেভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়ত না কিংবা ক্ষোভের প্রকাশটা এত তীব্র হতো না।’

‘চট্টগ্রামে অবতরণের পর ক্রিকেটাররা অসৌজন্যতামূলক আচরণ করে চক্ষুশূল হয়েছিল। আর তারপর সেই গরম কড়াইতে ‘ঘি’ ঢালেন পাকিস্তানের তখনকার অধিনায়ক মাজিদ খান ও টিম ম্যানেজমেন্ট। তাদের করা আরেক বড় ভুলের চড়া মাশুল গুণতে হয়েছে পুরো পাকিস্তান দলকে।’

সেটা কীভাবে? রকিবুলের ব্যাখ্যা, ‘বিমান বন্দরের ঐ ঘটনটি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ বাংলা দৈনিক আজাদীতে। লিখেছিলেন খুব সম্ভবত আর রেজাউল হক বাচ্চু। আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ প্রয়াত বাচ্চু ভাই। ঐ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আজাদীর তখনকার সম্পাদক মোহাম্মদ খালেদের পক্ষ থেকে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আগ্রাবাদ টিম হোটেলে যোগাযোগ করা হয়েছিল।’

‘শুধু তাই নয়, একটি ঐতিহাসিক সত্য হলো, যেহেতু আসিফ ইকবাল আসেননি, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাজিদ খান আর ম্যানেজারকে এক পেয়ালা চায়ের আমন্ত্রণ করা হয়েছিল আজাদী পত্রিকার অফিসে। আজাদী কর্তৃপক্ষর ইচ্ছেটা ছিল চমৎকার। তাদের ভাবনা ছিল, পাকিস্তানিরা বিশেষ করে অধিনায়ক মাজিদ খান কিংবা ম্যানেজারের একজন বা উভয়ে তাদের আচরণের জন্য দুঃখপ্রকাশ করলে প্রতিবেদনে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জানিয়ে দেয়া যাবে, বিমানবন্দরের ঘটনার জন্য পাকিস্তানিদের দুঃখপ্রকাশ।’

‘কিন্তু পাকিস্তান টিম ম্যানেজার বা অন্য কোন কর্মকর্তা আজাদী পত্রিকার অফিসে যাননি। আর আজাদী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর কোনরকম যোগাযোগও করেনি। তখন প্রতিবেদন ছাপা হয়ে যায়, চট্টগ্রামে নেমেই সালাম, আদাবের বদলে ‘নামাস্তে’ দিলো পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। আর তাতেই পুরো চট্টগ্রাম মহা নগরে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটে। পাকিস্তানি টিম ম্যানেজমেন্ট নমনীয় হয়ে দুঃখপ্রকাশ করলেই হয়তো উত্তেজনা কমান যেত। কিন্তু তারা তা করেনি। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে চট্টগ্রাম।’

‘পাকিস্তানিদের সামনে অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগও ছিল। তারা বলতে পারত, আমরা এক মাস যাবৎ ভারতে অবস্থান করছি। তাই সালামের জবাবে নামাস্তে দিতে দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সে কারণেই আমরা বাংলাদেশে এসেও তাই দিয়েছি। কিন্তু পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এমন কোন বক্তব্যও দেয়া হয়নি। অথচ তাদের বক্তব্য নেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন আজাদী পত্রিকার সে সময়ের সম্পাদক সাহেব।’

‘পরে অনাকাঙ্খিত ঘটনার মধ্য দিয়ে দুইদিনের ম্যাচটি পণ্ড হলো। তারপর ঢাকায় যে তিনদিনের ম্যাচ ছিল সেটাও বাতিল করা হলো। এরপর ভারত থেকে আসিফ ইকবাল আসলেন ঢাকায়। তিনি দুঃখপ্রকাশ করলেন। আমি তাকে পুরো ঘটনা বলার পর আসিফ ইকবাল আমাকে বলেছিলেন, রকিবুল আমি থাকলে নির্ঘাত ঐ বিক্ষুব্ধ অবস্থার উদ্রেক ঘটত না। আমি অবশ্যই আজাদী পত্রিকার সম্পাদক সাহেবের চায়ের আমন্ত্রণ গ্রহণ করতাম এবং তার সাথে দেখা করে সরি বলতাম।’

‘ঢাকার তিনদিনের ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর পাকিস্তান দলকে নৌবহরে মেরি অ্যান্ডারসনে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা সদরঘাট থেকে নৌপথে গ্রাম বাংলার নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্য দেখল। আমরা কজন ক্রিকেটারও ছিলাম তাতে। তার পরদিন পাকিস্তানিরা ফিরে গেল ভারতে সিরিজের বাকি অংশ খেলতে।’

রকিবুল হাসান একা নন, ঐ ম্যাচে অংশ নেয়া আরও তিনজন ক্রিকেটার একই সুরে কথা বলেছেন। প্রত্যেকের কথায় একটা আভাস ছিল পরিষ্কার। তা হলো, পাকিস্তানিরা ফুলেল শুভেচ্ছা, সালামের জবাবে নামাস্তে দিয়েছিল ইচ্ছে করে। যা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বর ওপর একটা কালিমা লাগানোর অপচেষ্টা।

দলটি পাকিস্তান না হয়ে ভারত হলে ফুলেল শুভেচ্ছার জবাবে নামাস্তে দিলে মানানসই ছিল। কিন্তু শতভাগ মুসলমান ক্রিকেটারের দল পাকিস্তান কেন নামাস্তে দেবে? কাজেই ধরে নেয়া যায়, পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের মানুষকে হেয় করতে ইচ্ছে করেই দু’হাত জড়ো করে নামাস্তে দিয়েছিল।

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত সেই ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
(২-৩ জানুয়ারি ১৯৮০, এম এ আজিজ স্টেডিয়াম)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসঃ ১৭৯/৫ (মুদাসসর নজর ৭৭, সাদিক মোহাম্মদ ৩৫, মাজিদ খান ২১; ইউসুফ বাবু ২/৩৮, মাইনুল হক মাইনু ১/২৩, অলক চক্রবর্তী ১/৪৭)

বিসিবি একাদশ প্রথম ইনিংসঃ ১১৪/১০ (ইউসুফ বাবু ২৮; মাজিদ খান ২/৪, ইকবাল কাশিম ২/২৪)

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসঃ ১৩৮/৩ (তালাত মীর্জা ৪৩, জাভেদ মিয়াদাদ ২৮; অলক চক্রবর্তী ২/৪২, মাইনুল হক মাইনু ১/২৩)

বিসিবি একাদশ দ্বিতীয় ইনিংসঃ ৬৫/৩ (ইউসুফ বাবু ১৭, রকিবুল হাসান ১২, মাইনুল হক মাইনু ১২, সদরুল আনাম ১২*)

ফলঃ দর্শক গোলযোগের কারণে ম্যাচ পন্ড। সূত্র- জাগোনিউজ

ট্যাগ :

আর্কাইভ

জুন 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মে    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
দৃষ্টি আকর্ষণ