শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

কারাগার থেকে বন্দুকযুদ্ধে অংশ নিলেন তিন হাজতি !

কারাগার থেকে বন্দুকযুদ্ধে অংশ নিলেন তিন হাজতি !

কক্সবাজার ২৭’মে ১৯:

টেকনাফে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন কারাগারের তিন হাজতি। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার দুদু মিয়া নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে পুলিশের দুই সদস্যও। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

গত ১১’মে কক্সবাজারের টেকনাফে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের এএসআই সনজীব দত্ত বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ৪৪/১৯। মামলায় মোট ২৯ জনকে আসামী করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ নং আসামী ইদ্রিস ও ২১ নং আসামী আলী আহম্মদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রয়েছেন এবং এছাড়া ২৮ নং আসামী মো: রফিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পণ করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন। তিনি স্বঘোষিত ইয়াবাকারবারি।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ বলেন, টেকনাফ নাজির পাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো: রফিক চলতি বছরের ১৬ ফেব্রæয়ারি থেকে আমার জেলে হাজতি হিসেবে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ইদ্রিসের ভাই মো: আইয়ুব বলেন, আমার ভাই ইদ্রিস গত বছর পুলিশের হাতে আটক হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। তাকেও আসামী করা হয়েছে। আমি টেকনাফে বসবাস করি না অনেক আগে থেকে। আমাকেও আসামী করা হয়েছে।

হাজতে থাকা অবস্থায় মামলায় আসামী করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন মাদক বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন দায়িত্বহীন কাজ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলার বাদি এএসআই সনজীব জানান, আমরা চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী দুদু মিয়াকে আটক করে জিঙ্গাসবাদ করি। তার দেয়া বক্তব্যের উপর মামলায় অন্যন্যদের আসামী করা হয়। এখানে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। এ মামলায় যদি কোন হাজতি আসামী হয়ে থাকে তবে, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা তদন্ত করে তাদের বাদ দিতে পারেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে রাত অনুমান পৌনে দশটার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ার জনৈক জিয়াউর রহমানের বাড়ির সামনে বালু মাঠ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভ‚ক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী দুদু মিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় দুদু মিয়ার সহযোগিরা পালিয়ে যায়। পরে জিঙ্গাসবাদে দুদু মিয়া তার ব্যবসায়ীক সহযোগি হিসেবে ২৯ জনের নাম স্বীকার করে পুলিশের কাছে। তার দেয়া তথ্য মতে, ১১’মে রাত অনুমান আড়াইটার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ রোড় সংলগ্ন মুন্ডার ডেইল নৌকা ঘাটে তাদের গোপন আস্তানায় অভিযান চালায়। সেখানে পৌঁছা মাত্র দুুদু মিয়া চিৎকার করে বলে ‘সোন আলী, বশর, জাফর, ইসমাইল তোরা কই আমাকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাও”। তার চিৎকার শুনে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে সহযোগিরা। তাদের ছোড়া গুলিতে এএসআই নিজাম উদ্দিন ও কনস্টেবল মো: ইব্রাহীম আহত হয়। এ অবস্থায় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাই। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে দুদুমিয়ার সহযোগিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুদু মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে তার মৃত্য ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ টি দেশীয় তৈরি এলজি ১৩ রাউন্ড কার্তুজ, ১৫ রাউন্ড কার্তুজ ১৫ রাউন্ড কার্তুজের খোসা ৪ হাজর পেস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানার এএসআই সনজীব দত্ত বাদি হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কারাগারে থাকা তিন জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ নাজির পাড়া এলাকার হোছেন আহাম্মদ এর ছেলে ইদ্রিস ও একই এলাকার মৃত ইউসুপ প্রকাশ ফুলা ইউছুফের ছেলে আলী আহম্মদ প্রকাশ লেড়– প্রায় এক বছর পূর্বে ইয়াবাসহ আটক হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসরার সাথে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়া অপর আসামী নাজির পাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো: রফিক চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে রয়েছেন। অথচ তারা তিন জনই গত ১১’মে দুদু মিয়াকে বাঁচাতে টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে অংশ নিয়ে মামলার আসামী হয়েছেন ! তবে পুলিশে দাবি ধৃত দুদু মিয়ার তাদের নাম স্বীকার করেছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ একটি মামলায় আসামী হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, কোন অপরাধীকে আটক করার পর তারা আমাদের কাছে কিছু নাম গ্রাম বলে। ঐ নামগুলো আমরা আসামী হিসেবে তালিকাভ‚ক্ত করি। এ ক্ষেত্রে হয়তো এ ধরনের ভুল হচ্ছে। আমার কাছে দু’একজনের তথ্য এসেছে। ঐগুলো তদন্ত করে বাদ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে টেকনাফে যা হচ্ছে তা অনেক বড় কাজ। এতবড় কাজে দু একটা ভুল হতেই পারে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, কারাগারে থাকাবস্থায় কেউ আসামী হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। যদি এ ধরনের ঘটনা হয় তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।###


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আলোকিত কক্সবাজারে ব্যবহৃত সকল সংবাদ এবং আলোকচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বে-আইনি। স্বত্বাধিকারী alokitocoxsbazar.com দ্বারা সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM