শনিবার, ২০ Jul ২০১৯, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে “জনি ধর’’র পদত্যাগ

সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে “জনি ধর’’র পদত্যাগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি,

কক্সবাজার ৩ এপ্রিল ১৯, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলার সর্বস্থরের সনাতনী নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্থরের সনাতনী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আপনারা সকলেই অবগত আছেন, অতি সম্প্রতি সনাতনী সমাজ পরিমন্ডলের জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আওতাধীন দূর্গাপূজার ভূয়া পূজা মন্ডপ দেখিয়ে চাউল আত্মসাৎ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সনাতনী সমাজের হত দরিদ্রদের জন্য প্রেরিত পূজার শুভেচ্ছা উপহার এর টাকা হরিলুট, এবং সর্বত্রে জেলা কমিটির সভাপতি সংগঠনকে পরিবারতন্ত্রে রূপান্তরিত করায় জেলার সনাতনী সমাজের অসহায়ত্ব পরিলক্ষিত।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের শহরের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত সতন্ত্র মন্দির শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রম এর কার্যকরী কমিটি করাকে কেন্দ্র করে পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ডা. চন্দন কান্তি দাশের মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি সত্যের পক্ষে অবস্থান করায় জেলা পূজা কমিটির সভাপতির রোষানলে পড়েন। ফলাফলে পৌর কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. চন্দন কান্তি দাশ ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন গুহ সহ পৌর পরিষদের পুরো কমিটিকে জেলা কমিটির সভাপতি কর্তৃক মাত্র পাঁচ মিনিটের লোক দেখানো সভায় মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে না হতেই পৌর কমিটিকে বিনা কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছিলো।

জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ লোকনাথ সেবাশ্রম নিজের আয়ত্তে¡ নেওয়ার জন্য তাহার নিজস্ব ভবনের ছাদ থেকে মন্দিরের সভাপতি ও ৮নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর রাজবিহারী দাশ এর বাস ভবনে গুলিবর্ষণ করেন। পরবর্তীতে রাজবিহারী দাশ কর্তৃক এডভোকেট রনজিত দাশ এর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইহাতে তৎকালীন সদর মডেল থাকার পরিদর্শক (ওসি) বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে আসেন। তার পরের ইতিহাস হচ্ছে পৌর পূজা উদযাপন পরিষদে নিজের পরিবারের লোক নিয়োগের জন্য একটি প্রহসনমূলক সম্মেলন করেন। উক্ত সম্মেলনে জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ এর আপন মামা বেন্টু দাশকে কাউন্সিল অধিবেশনের আগে নিজে সভাপতির নাম ঘোষণা করেন। যা সংগঠন বিরুধী।

উক্ত সময় সম্মেলনে উপস্থিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটবৃন্দ ক্ষুব্দ ও প্রতিবাদ করলে জেলা সভাপতি শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদে গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করেন। সে সময় উপস্থিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেট বৃন্দের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে আমি জনি ধর সাধারণ সম্পাদক গ্রহণ করি। সনাতনী সমাজের মঙ্গলার্থে পৌর নেতৃত্ব হাতে নিয়ে একটি মডেল পৌর কমিটি গঠন করে সত্যের স্বারর্থীরূপে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে সনাতনী সমাজের জন্য কাজ করি।

অতি সম্প্রতি দুর্নীতিবাজ জেলা পূজা কমিটির ইন্দনে অবৈধ আহবায়ক কমিটি দ্বারা রাতের আঁধারে পূজার চাউল আত্মসাৎকারীর যোগ সাজশে লোকনাথ সেবাশ্রমে একটি পকেট কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। লোকনাথ সেবাশ্রম একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্যেও জেলা পূজা কমিটির সেচ্চাসারী মনোভাবে সনাতনী সমাজে তীব্র অসন্তুষ ও ক্ষোভ বিরাজ করে। উক্ত বিষয়ে আমি সহ সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন মাননীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন বরাবর দরখাস্ত দায়ের করি। দুধের মতো পরিষ্কার হলো যে, গণতান্ত্রিক পন্থা ছাড়া সংগঠনের কোনো কাজ শুভ হয়না।

লোকনাথ সেবাশ্রমের কমিটি নিয়ে অসন্তুষের একমাত্র কারণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রনজিত দাশ এর পরিবারতন্ত্র। তিনি সনাতনী সম্প্রদায়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানসমূহকে টার্গেট করে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আখের ঘোচানোর জন্য সবসময় তৎপর। আমি লোকনাথ সেবাশ্রমের আজীবন সদস্য হয়।

পৌর পূজা কমিটির অনেক সদস্যও সেখানে সদস্য পদে আছেন। পকেট কমিটির প্রতিবাদ করলে জেলা পূজা কমিটির সভাপতি রনজিত দাশ ও সাধারণ বাবুল শর্মা পৌর কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোট চাল সহ হুমকি ধমকি দিয়ে থাকেন। সর্বশেষ পৌর কমিটির সভাপতি বেন্টু দাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লোকনাথ মন্দির নিয়ে পৌর কমিটির কাউকে মন্তব্য না করার জন্য বলেন। যা গণতান্ত্রিক মতামতকে দমনের বহি:প্রকাশ।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি জনি ধর, রনজিত দাশের পরিবারতন্ত্রের আচ্ছন্ন পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করছি। তাছাড়া বিগত ২০১৮ সালে দূর্গোৎসবে পৌরসভার ১১টি প্রতিমা পূজা ও ৮টি ঘট পূজার জন্য ১৬ মেট্রিক টন চাউল পৌর সভাপতি বেন্টু দাশের নামে জেলা প্রশাসন বরাদ্ধ দেয়। অথচ পৌরসভায় ঘট পূজার সংখ্যা ৬টি। বাকি ২টি ঘট পূজার কোনো অস্থিত্ব নাই।

সেগুলো হলো- (১) ঠিকানাবিহীন হরিলাল বাবুর বাড়ি শ্রী শ্রী দূর্গোৎসব, (২) রীতা রাণী দে এর বাড়ি সার্বজনীন দূর্গোৎসব। এ দুটি মন্ডপে পাঁচশ কেজি চাউল বিভাজন করা হয়। এ দুটি ঘট পূজার বিষয়ে আমি পৌর সভাপতি বেন্টু দাশের দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। দুটি ভূয়া ঘট পূজার বিষয়ে তদন্তে নামলে তার মূল রহস্য বেড়িয়ে আসবে। এই পূজা মন্ডপ দুটি সহ পৌর সভার পূজা মন্ডপ গুলো ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর যাবৎ কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আজীবন সভাপতি দীপক দাশ। যিনি এডভোকেট রনজিত দাশ এর মাসিত ভাই। তিনি এই ভূয়া মন্ডপসহ সদরের বিভিন্ন জায়গায় ভূয়া মন্ডপ দেখিয়ে পূজার জন্য বরাদ্ধকৃত সরকারি অনুদান আত্মসাৎ করে আসছিলো। যার সত্যতা পেয়ে ইতোপূর্বে তার দুর্নীতি ও আত্মসাতের বিষয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে জেলা পূজা কমিটির সভাপতি রনজিত দাশ তার মাসিত ভাই দীপক দাশকে রক্ষার জন্য পরিবারতন্ত্রে পরিচালিত পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে ভয় ভীতির মাধ্যমে কৌশলে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাংবাদিকদের ভূয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে শাখ দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন এবং একটি প্রহসনমূলক তদন্ত কমিটি করেন। যার ৭দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ তিনমাসেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সাংবাদিক সম্মেলনে আমি সত্য ঘটনাটি ও পৌর সভার দুর্নীতির বিষয়টি সাংবাদিকদের উপস্থাপন করতে চাইলে পৌর সভাপতি বেন্টু দাশ ও জেলা সভাপতি রনজিত দাশ এর মামা-ভাগিনার সিন্ডিকেটের চাপের মুখে উপস্থাপন করতে পারিনি। দুর্নীতি ও আত্মসাতের বিষয়ে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি। পরিশেষে পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোদ্ধাদের কাছে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যারা আমার পাশে থেকে সংগঠন গড়তে নিরলস শ্রম ও মেধা দিয়ে শত বাঁধা উপেক্ষা করে মডেল পৌর কমিটি সৃষ্টি করেছেন।

আপনারা সকলে জানেন, আমি সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন করে বড় হয়েছি। উড়ে এসে জুড়ে বসার পাত্র নয়। ন্যায়ের পথে চলেছি, বাঁধা পেয়েছি, তবে ধমে যায়নি। আপনাদের মতো সহযোদ্ধা পেয়েছি বলে, আজ পদত্যাগ করেও আমি গর্বিত। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ রনজিত দাশের পারিবারিক সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে।

জেলা সভাপতির ভাই, মামা ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া জেলা সদর ও পৌর কমিটির কারও গণতান্ত্রিক মতের কোনো মূল্য নেই। এ অবস্থায় পদত্যাগ ব্যতিত অন্য কোনো উপায় নেই। সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

নিবেদক-
জনি ধর
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ
পৌর শাখা, কক্সবাজার।
যোগাযোগ-০১৮৩৭১৯৩৯৬৯।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আলোকিত কক্সবাজারে ব্যবহৃত সকল সংবাদ এবং আলোকচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বে-আইনি। স্বত্বাধিকারী alokitocoxsbazar.com দ্বারা সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM