শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে শতকোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে ৯টি মডেল মসজিদ

কক্সবাজারে শতকোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে ৯টি মডেল মসজিদ

কক্সবাজার,৩০ মে ১৯ ইং

প্রায় একশত কোটি টাকা ব্যয় সরকারিভাবে কক্সবাজারে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ৯টি মডেল মসজিদ। ইসলামি ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে এসব মসজিদ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ। জেলার তিনটি উপজেলা ব্যতিত অন্যন্য উপজেলায় ঈদের পরপরই মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জহির উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, গেল বছরের ৫ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০ টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সমগ্র দেশের ন্যায় কক্সবাজারে ৮টি উপজেলা ও একটি পৌরসভায় মোট ৯টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কুতুবদিয়া, পেকুয়া এবং রামু ছাড়া অন্য উপজেলা মসজিদের নির্মাণের দরপত্র পক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। আশা করি ঈদের পরেই দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। রামু, পেকুয়া, কুতুবদিয়ায় জমি পাওয়া গেলে সেখানেও দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

গণপূর্ত বিভাগের এ কর্মকর্তা বলেন, ইসলামি স্থাপত্য দিয়ে দৃষ্টি নন্দন করে নির্মাণ করা হবে আধুনিক এসব মসজিদ। মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হলে গ্রামাঞ্চলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সেবা এবং পর্যটন নগরী হিসাবে কক্সবাজারের ব্যাপক সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে ইসলামি ফাউন্ডেশনের দেয়া তথ্য মতে, নির্বাচনী ইশতিহারে আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা সমগ্র দেশে মসজিদ স্থাপনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। নির্বাচনী ওয়াদা পুরণ করতে তিনি সামগ্র দেশে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া এসব মসজিদ স্থাপনের মধ্য দিয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরো এগিয়ে যাবে।

তাদের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় ৮টি উপজেলায় ৮টি ছাড়াও কক্সবাজার পৌরসভায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদও মডেল মসজিদ হিসেবে কাজ শুরু করা হবে। ইতিমধ্যে সেখানে ৬০ শকত জমি মাটি পরীক্ষা, বিল বোর্ড স্থাপন, ডিজিটাল সার্ভে সহ সর্ব শেষ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০/১২ কোটি টাকা।

এছাড়া উখিয়া উপজেলাতে মরিচ্যা বাজার ষ্টেশনে, টেকনাফ উপজেলাতে টেকনাফ পৌরসভা এলাকায়, চকরিয়া উপজেলাতে উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদ, মহেশখালী উপজেলা কমপ্লেক্স মসজিদ ।

কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক ফাহমিদা বেগম জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্টা করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্র ক্ষমতা পালাবদলে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থমিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জনকল্যাণমুখী করতে কাজ করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সরওয়ার আকবর বলেন, প্রতিটি মডেল মসজিদ হবে অত্যান্ত দৃস্টি নন্দন। এটা শুধু মডেল মসজিদ নয় সাথে থাকবে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যেখানে থাকবে নারী এবং পুরুষের জন্য পৃৃথক অজু ও নামাজের ব্যবস্থা, লাইব্রেরী গবেষনাও দ্বীনি দাওয়াত কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন হেফজ খানা, শিশু শিক্ষা,অতিথি শালা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন, মৃত দেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজ্জযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, ইমাম মোয়াাজ্জিনের আবাসন ব্যবস্থা সহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস। এক কথায় এই মডেল মসজিদ হবে পূর্নঙ্গ একটি প্রতিষ্টান যেখানে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলের নির্বাচনী ইশতিহারে সমগ্র দেশে মসজিদ নির্মাণের ঘোষনা দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ৫ এপ্রিল প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০ টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ২৭ জুন জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।

……………………………………………………………………………ওয়াহিদুর রহমান রুবেল।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আলোকিত কক্সবাজারে ব্যবহৃত সকল সংবাদ এবং আলোকচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বে-আইনি। স্বত্বাধিকারী alokitocoxsbazar.com দ্বারা সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM