সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

আরাকানে চলমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য অনিরাপদ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল

আরাকানে চলমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য অনিরাপদ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদল

কক্সবাজার থেকে.২৭ এপ্রিল ১৯ 
…………………………………………………………………….
রোহিঙ্গা সংকটের জন্য মিয়ানমার দায়ী। তাই এর সমাধান মিয়ানমার থেকেই আসতে হবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, মিয়ানমারের আভ্যন্তরিণ অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। আরাকানে চলমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনিরাপদ। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সাথে যৌথ আলোচনায় মানবাধিকার নিয়েই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে কাজ করছে জাতিসংঘ। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রাণান্ত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শুক্রবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে হোটেল সায়মন বীচ রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি শুক্রবার সকালে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকোক ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক এন্তোনিও ভিতোরিনোকে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ১১, ১৭ ও ১৮ বøক পরিদর্শনের পর তারা যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে মিলিতি হন।
বেলা ৩টায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ফিলিপ্পো গ্রান্ডি আরো বলেন, প্রায় এক মিলিয়নের অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয়রা সব দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। স্থানীয়দের আবাসন ও চাষের জমি, বন, পাহাড় ও পরিবেশের চরম ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গারা ঝুপড়িতে থাকতে গিয়ে যেমন কষ্টে আছে, তেমনি তাদের কারণে স্থানীয়রাও দূর্ভোগে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এতসব কষ্ট ভোগের বিনিময়ে বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয়দের মানবিকতার নজির বিশ্বময় প্রসংশিত হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও এদেশের উদার মানবতার সাথে আমরাও একাত্মতা ঘোষণা করছি।
আন্তর্জাতিক তিন সংস্থার প্রধান রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরো বলেন, মিয়ানমার তাদের আদি গোষ্টি রোহিঙ্গার উপর যে নিপীড়ন চালিয়েছে তা অমানবিক। সভ্য যুগে এটি কল্পনাও করা যায় না। আমরা এর নিন্দা জানাই।
তারা বলেন, আমারা চাই রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারাও (রোহিঙ্গারা) ফিরে যেতে চান। তবে, নাগরিকত্ব ও স¦াধীন ভাবে মাথা উচুঁ করে থাকার নিশ্চয়তা নিয়ে ফিরতে চান তারা। এটি যুক্তিক। আমরাও চাই তারা সে অধিকার নিয়েই ফিরে যাক।
গত বছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মাঝে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। আমরা আশাবাদি ছিলাম, মিয়ানমার চুক্তিমতো কাজ করবে। কিন্তু তারা, এখন আরাকানে যে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে এতে প্রত্যাবাসন বিলম্বিতই হবেই। রোহিঙ্গাদের ফিরেয়ে নিতে মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এরপরও আলোচনতা চালিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে, ফিলিপ্পো বলেন- আবার আমরা মিয়ানমার যাব। তাদের অথরিটির সাথে কথা বলে রোহিঙ্গাদের বাসযোগ্য আবাসন ও স্বাধিকার নিয়ে ফিরে যাবার বিষয়ে মিয়ানমারের সম্মতি আদায়ে চেষ্টা করব। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতাও দরকার।
ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অনেকে পাচারের শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে জাতিসংঘ কর্মকতারা বলেন, মাত্র ৬-৮ হাজার একর জায়গায় প্রায় এক মিলিয়ন লোকের আবাসন সত্যি দূর্ভোগের। তাই তারা উন্নত আবাসনের আশায় অন্যত্র যাবার পরিকল্পনায় বিভোর। স্বইচ্ছা ও প্রলোভনে পড়েই অনেকে পাচারের জড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইএমও’র মহাপরিচালক।
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, ভাসানচরে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসন তৈরী করেছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এটি যে নিরাপদ হবে এ বিষয়টি রোহিঙ্গারে কোন মতেই বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না। তাই তারা ওখানে স্থানান্তরিত হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এতে আইএনজিও বা ইউএন’র কোন হাত নেই। আবার জোর করে তাদের ভাসানচরে পাঠানোর পক্ষেও নয়।
ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর পরই আমরা মিয়ানমার গিয়েছিলাম। সম্প্রতি আবারো যাওয়া হয়েছে। দেড় বছর আগের পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তন হয়নি। যদি তারা রোহিঙ্গাদেও ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে নিরাপত্তাসহ অধিকারনিয়ে বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া অনর্থক।
বিশ্ব সম্প্রদায় জেনেছে, রোহিঙ্গা সংকটের জন্য মিয়ানমার দায়ী। তাই এর সমাধানও মিয়ানমার থেকেই আসতে হবে। জাতিসংঘ এপথেই হাটছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির নেতৃত্বে প্রায় ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। কক্সবাজার পৌঁছে তারা প্রথমে জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষে নেতৃত্বদেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার। এরপর জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালামের সাথে বৈঠক করেন।
ওয়াহিদুর রহমান রুবেল……………………


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আলোকিত কক্সবাজারে ব্যবহৃত সকল সংবাদ এবং আলোকচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বে-আইনি। স্বত্বাধিকারী alokitocoxsbazar.com দ্বারা সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY MONTAKIM